“গান্ধীজির নীতি নয়, সুভাষ বসুর কায়দায় জবাব দেওয়া হবে!” যাদবপুর নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য বিরোধী নেতার!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের একবার চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত দেশবিরোধী শক্তির বাড়বাড়ন্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন রাজ্যের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে যদি ফের ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ বা দেশের অখণ্ডতা বিরোধী কোনো স্লোগান ওঠে, তবে সরকার আর ধৈর্য ধরবে না। প্রয়োজনে মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতির পথ ছেড়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর কায়দায় কড়া হাতে তার জবাব দেওয়া হবে।

বিধানসভায় শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীদের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বদলি সংক্রান্ত একটি নতুন সংশোধন বিল পেশ করার সময় এই মন্তব্য করেন তিনি। তিনি জানান, এই নতুন প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক সংস্কার আনা হবে এবং নতুন প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও শক্তিশালী করা হবে। কড়া সুরে তিনি আরও বলেন, এই বিলে যারা সন্তুষ্ট নন, তারা চাইলে নিজেদের চাকরি ছেড়ে চলে যেতে পারেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ১,৩০০ কোটি টাকার বিশাল অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হলেও, সেখানে বসে যারা ভারতের অখণ্ডতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে বা টুকরো টুকরো করার স্লোগান দেবে, তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। পাশাপাশি, ১৯৭০ সালের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য গোপাল সেনের রহস্যমৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি প্রয়োজনে এই ঘটনার পুনঃতদন্তের জন্য উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথাও উল্লেখ করেন।

এদিন শুধু শিক্ষাঙ্গনই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় ভাবাবেগ ও আচার-অনুষ্ঠান সংক্রান্ত মন্তব্য এবং বাগেশ্বর ধামের ধীরেেন্দ্র শাস্ত্রীর পুতুল পোড়ানোর ঘটনা নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। তিনি জানান, কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন সাম্প্রতিক কংগ্রেসের বিক্ষোভের সময় ধীরেেন্দ্র শাস্ত্রীর কুশপুতুল দাহ করার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়। রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন যে, বিরোধী দলগুলি গেরুয়া রঙের প্রতি অনাস্থা ও অসম্মান প্রদর্শনের কারণেই বিগত বিধানসভা নির্বাচনে চরম পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, আসন্ন উপনির্বাচনগুলিতেও বিরোধীদের শোচনীয় পরাজয় নিশ্চিত। সামগ্রিকভাবে, তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।