বিশ্ব পরিবেশ দিবসকে ঘিরে ভারতের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ইতিহাসে এক মাইলফলক তৈরি হলো। কয়েক দশক ধরে ‘অদৃশ্য’ থাকার পর মধ্যপ্রদেশের কুনো ন্যাশনাল পার্কে পুনরায় দেখা মিলল ভারতের অন্যতম বিরল ও রহস্যময় বন্যপ্রাণী ‘ক্যারাকাল’-এর (Caracal)। অতি চতুর এবং লুকিয়ে থাকার অদ্ভুত ক্ষমতার জন্য এদের ‘তৃণভূমির ভূত’ বা ‘Ghost of the grasslands’ বলা হয়।
ক্যামেরা ট্র্যাপে ঐতিহাসিক মুহূর্ত: বন দপ্তরের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষার সময় জঙ্গলে বসানো ক্যামেরা ট্র্যাপে এই বিরল চিতা-বিড়ালের ছবি ধরা পড়ে। লম্বা কালো লোমযুক্ত কান, সুগঠিত শরীর এবং অবিশ্বাস্য শিকারি ক্ষমতার অধিকারী এই প্রাণীকে দেখে উচ্ছ্বসিত পরিবেশবিদরা। একসময় পশ্চিম ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় এদের আধিপত্য থাকলেও, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে এরা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। বহু বছর পর কুনোর জঙ্গলে এদের প্রত্যাবর্তন বন্যপ্রাণী প্রেমীদের জন্য এক বড় প্রাপ্তি।
সাফল্যের নেপথ্যে ‘প্রজেক্ট চিতা’: মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এই ঘটনাকে রাজ্যের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের এক বিরাট সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ‘প্রজেক্ট চিতা’-র আওতায় কুনো ন্যাশনাল পার্কে বাস্তুতন্ত্রের যে ব্যাপক উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ চলছে, তার সুফল হিসেবেই ক্যারাকালের মতো বিপন্ন প্রজাতিরা পুনরায় নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাচ্ছে।
পরিবেশের ভারসাম্যের বার্তা: বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যারাকালের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে কুনোর বাস্তুতন্ত্র এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং এদের পর্যাপ্ত খাদ্যের সংস্থান সেখানে বিদ্যমান। আফ্রিকান চিতার পর ক্যারাকালের এই আগমন কুনো ন্যাশনাল পার্কের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিল। কুনো ছাড়াও রাজ্যের ‘গান্ধী সাগর অভয়ারণ্যে’-ও ইদানীং ক্যারাকালের দেখা মিলেছে, যা প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রদেশের শুকনো ও পাথুরে জঙ্গলগুলো এই বিরল প্রাণীদের টিকে থাকার উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রেখেছে।
ভারতের এই বিপন্ন বন্যপ্রাণীকে রক্ষা করতে এবং তাদের বাসস্থানকে আরও সুরক্ষিত করতে বন দপ্তর এখন নজরদারি ও বিশেষ ব্যবস্থা জোরদার করছে।





