বন্দে মাতরম বিতর্ক তুঙ্গে! মোদী-বাজপেয়ীর দেশপ্রেম নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন কপিল সিবাল

জাতীয় সংগীত ও বন্দে মাতরম গাওয়াকে কেন্দ্র করে ভারতীয় রাজনীতিতে ফের তীব্র উত্তাপের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে কেন্দ্রীয় সরকার যখন কংগ্রেস দলের বিরুদ্ধে এই ঐতিহাসিক উপাস্য সংগীতের অবমাননার গুরুতর অভিযোগ তুলছে, তখন বিরোধী শিবির একে বিজেপির কৃত্রিম ও ভণ্ড জাতীয়তাবাদ হিসেবে দাগিয়ে দিয়েছে। এই রাজনৈতিক কোলাহলের মধ্যেই কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (সিডব্লিউসি) সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেশের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কপিল সিবাল এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি সরাসরি নরেন্দ্র মোদী ও অটল বিহারী বাজপেয়ীর অতীত কার্যকাল নিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে জানতে চেয়েছেন যে, অতীতে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রিত্ব বা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালীন কখনোই সম্পূর্ণ বন্দে মাতরম গেয়েছিলেন কি না। সিবালের এই মন্তব্যের ফলে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।

এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে অভিযোগ করেছিলেন যে, ভোটব্যাঙ্ককে তুষ্ট করার অসৎ উদ্দেশ্যে এবং প্রকাশ্যে দেশের আইনকে অগ্রাহ্য করার মানসিকভাবেই কংগ্রেস বন্দে মাতরমের মাত্র দুটি অনুচ্ছেদ গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর মতে, অতীতেও এই ধরনের তোষণ নীতির কারণেই দেশভাগের মতো মর্মান্তিক পরিণতি দেশের নাগরিকদের ভোগ করতে হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বন্দে মাতরমের ১৫০তম বার্ষিকীতে সেই ঐতিহাসিক ভুল সংশোধন করেছে দাবি করে শাহ অভিযোগ করেন যে, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান কংগ্রেস দল আবারও সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ধারালো আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেনি কংগ্রেস। দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে যে, ছাত্র সমাজের দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলন, বেকারত্ব এবং অন্যান্য জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুতর ইস্যুগুলি থেকে দেশের সাধারণ মানুষের নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্যই বিজেপি সুকৌশলে এই জাতীয় সংগীত নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করছে। কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ কটাক্ষ করে বলেছেন যে, বিজেপি এবং তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধানে সম্পূর্ণ ব্যর্থ এবং তারা ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে চাইছে। সব মিলিয়ে, আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে বন্দে মাতরম নিয়ে তৈরি হওয়া এই নতুন বাগযুদ্ধ জাতীয় রাজনীতিতে এক তীব্র সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।