দুবাইয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে ভয়ঙ্কর প্রতারণা! বিহারের সাত যুবকের করুণ পরিণতিতে তোলপাড়

“বিদেশে চাকরি পেলে দেশের দারিদ্র্য দূর হয়ে যাবে এবং আমাদের জীবন বদলে যাবে।”… এই আশায় বুক বেঁধে এবং মহাজনের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে বিহারের পূর্ণিয়া (আমোর) ও কিষাণগঞ্জ (কোচাধামান) জেলার সাতজন অসহায় যুবক গত ৪ঠা আগস্ট দুবাই পাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু উন্নত জীবনের রঙিন স্বপ্ন নিমেষেই ধূলিস্যাৎ হয়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই তরুণেরাই দুবাইয়ের মাটিতে সর্বস্বান্ত ও অসহায়ভাবে বন্দি হয়ে দিন কাটাচ্ছেন, আর এদিকে দেশে থাকা তাদের পরিবারগুলো সন্তানদের নিরাপত্তার দাবিতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে চোখের জল ফেলছে।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক হৃদয়বিদারক ভিডিওবার্তায় ভুক্তভোগী যুবকরা তাদের ওপর চলা অকথ্য নির্যাতনের কথা তুলে ধরেছেন। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, একটি মোজার কারখানায় লোভনীয় বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের দুবাই পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু মরুশহরে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের সমস্ত পাসপোর্ট ও বৈধ কাগজপত্র বলপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয় এবং প্রতিশ্রুতি মতো কোনো কাজের ব্যবস্থাই করা হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের কাছে দুবেলা দুমুঠো খাবার বা সামান্য পানীয় জল কেনার মতো টাকাটুকুও ফুরিয়ে এসেছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, তাদের মাত্র এক মাসের পর্যটন বা ট্যুরিস্ট ভিসায় পাঠানো হয়েছিল, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ১৫ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার ভয়ে এবং পুলিশি গ্রেফতারের আশঙ্কায় দেশের বাড়িতে থাকা পরিবারগুলোর রাতের ঘুম সম্পূর্ণ উবে গেছে।
এই ৭ যুবকের দলের মধ্যে পূর্ণিয়ার দিলফরোজ আলম, নাসির আলম, রাব্বান খান ছাড়াও দানিশ, নাজিশ, শামশাদ এবং কিষাণগঞ্জের আরও এক তরুণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। ভুক্তভোগী নাজিশের বাবা মুহাম্মদ হাসনাইন আর্তনাদ করে জানান, “আমরা এখন আর কোনো টাকা-পয়সা বা চাকরি চাই না, আমাদের একমাত্র দাবি আমাদের সন্তান যেন সুস্থ শরীরে নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসতে পারে।” অন্যদিকে, শামশাদের বাবা ইসমাইল জানান যে ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য তাঁকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়েছিল।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পেছনে এআইএমআইএম (AIMIM) বিহার রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক তথা এজেন্ট নাহিদ গনি এবং তাঁর ভাই আঞ্জার গনি সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ইতিমধ্যেই পূর্ণিয়া জেলার রাউতা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রাক্তন বিধায়ক মুজাহিদ আলমও এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে জানিয়েছেন যে, যুবকদের মিথ্যে স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে এবং এখন পাসপোর্ট ফিরিয়ে দেওয়ার নাম করে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করে অভিযুক্ত এজেন্ট নাহিদ গনি দাবি করেছেন যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এ ধরনের ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং শীঘ্রই যুবকদের অন্য কোনো কোম্পানিতে ভালো বেতনের চাকরি দেওয়া হবে। এই ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলেও ঋণগ্রস্ত পরিবারগুলোর একটাই প্রার্থনা—তাদের সন্তানেরা যেন সুস্থভাবে ঘরে ফিরে আসে।