পটল রান্নার আগে এই ছোট্ট নিয়মটি না জানলে বড় বিপদ! ভুলেও করবেন না এই মারাত্মক ভুল!

বাঙালির হেঁশেল এবং গরমকালের দুপুরের পাতে পটল থাকবে না, এমন দিন সত্যিই খুব কমই দেখা যায়। পটল-ভাত, পটল দোলমা কিংবা সুস্বাদু দই পটল—নাম শুনলেই জিভে জল চলে আসে। পটল শুধু খেতেই সুস্বাদু নয়, এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণও। এতে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম এবং ফাইবার ভরপুর থাকায় ওজন ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এটি দারুণ কার্যকরী। কিন্তু পটল রান্না করার সময় কিংবা কাটতে গেলেই গৃহিণীদের মনে একটি প্রশ্ন বারবার উঁকি দেয়—পটলের ভিতরের বীজগুলো কি ফেলে দেওয়া উচিত, নাকি রেখে দেওয়াই ভালো?

অধিকাংশ মানুষই তাড়াহুড়োয় বীজ সমেত পটল কেটে রান্না করে ফেলেন। কিন্তু পুষ্টিবিদরা সতর্ক করছেন যে এই সাধারণ অভ্যাসটি শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। আয়ুর্বেদ এবং পুষ্টি বিজ্ঞান বলছে, পটলের বীজ খাওয়া ক্ষতিকর কিনা তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে পটলটি কতটা কচি বা পাকা তার ওপর। বাজারে পাওয়া কচি ও নরম সাদাটে বীজযুক্ত পটল খাওয়া শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এই নরম বীজে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার থাকে, যা হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং অন্ত্র পরিষ্কার রাখে। এছাড়া এতে সামান্য পরিমাণে প্রোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও বিদ্যমান।

তবে আসল সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন পটল অতিরিক্ত পেকে যায় বা শক্ত হয়ে যায়। পাকা পটলের শক্ত, কালচে ও তেতো বীজ আমাদের পাকস্থলী সহজে হজম করতে পারে না। এর ফলে পেটে গ্যাস, অম্বল, পেট ফাঁপা এবং তীব্র ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের আইবিএস (IBS) বা বদহজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য পাকা পটলের বীজ বিষের সমান। এছাড়া অতিরিক্ত ফাইবার গ্রহণের ফলে ডায়রিয়া বা বমি ভাবও হতে পারে।

তাই সুস্থ থাকতে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলা জরুরি। বাজার থেকে সবসময় কচি ও শক্ত সবুজ পটল কিনুন। যদি পটল একটু পেকে যায় বা হলদেটে হয়, তবে রান্নার আগে চামচ দিয়ে ভিতরের শক্ত বীজগুলো ফেলে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এই সামান্য সতর্কতা অবলম্বন করলেই সুস্বাদু পটল খেয়েও আপনি থাকবেন সম্পূর্ণ সুস্থ ও বিপদমুক্ত।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty