বঙ্গে শিল্পের জোয়ার! দুবাই-লন্ডন থেকে ফোনে বিনিয়োগের প্রস্তাব পেলেন দিলীপ ঘোষ!

দীর্ঘদিন রাজনৈতিক ময়দানে সংগঠনের শক্ত ভিত তৈরির পর, এবার রাজ্যের প্রশাসনিক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন বর্ষীয়ান নেতা দিলীপ ঘোষ। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং রাজ্যে শিল্পায়নের প্রসারে নিজের পরিকল্পনার কথা স্পষ্ট করে আসছেন তিনি। শুক্রবার সকালে ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এমন এক দাবি করলেন, যা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দিলীপ ঘোষের দাবি, আন্তর্জাতিক মহল থেকে এখন প্রচুর বিনিয়োগকারী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, দুবাই, লন্ডন ও সিঙ্গাপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক শহর থেকে শিল্পপতিরা তাঁকে সরাসরি ফোন করছেন। শুধু তাই নয়, দেশের বাণিজ্যকেন্দ্র দিল্লি ও মুম্বই থেকেও একাধিক বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বাংলায় নতুন প্রকল্প শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমার কাছে নিয়মিত ফোন আসছে। তবে আমি তাদের বলেছি, একটু ধৈর্য ধরুন। আমরা সরকারটাকে আগে ঠিকঠাকভাবে সাজিয়ে নিই। বিনিয়োগকারীদের জন্য এমন একটি অনুকূল এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যাতে এখানে এসে আর কোনো শিল্পপতিকে হয়রানির শিকার হতে না হয় বা কোনো ধরনের ধাক্কা খেতে না হয়।”
তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনামলে রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং শিল্পবিরোধী মনোভাবের কারণে বহু নামী কোম্পানি এ রাজ্য থেকে ব্যবসা গুটিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছিল। শিল্পপতিরা পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন শুধুমাত্র সঠিক পরিকাঠামো ও পরিবেশের অভাবে। তবে এখন পরিস্থিতি বদলানোর সময় এসেছে বলেই তিনি মনে করেন।
রাজ্যের সম্ভাবনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থান এবং সম্পদের প্রাচুর্য শিল্পায়নের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। কৃষি, পশুপালন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং পর্যটন—এই ক্ষেত্রগুলোতে রাজ্যে বিপুল বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। দিলীপ ঘোষের কথায়, “আমরা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে চাই এবং কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলতে চাই।” সঠিক পরিকল্পনা এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাকে শিল্পক্ষেত্রে আবার প্রথম সারিতে ফিরিয়ে আনাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। প্রশাসনিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলায় ‘ইজ অফ ডুইং বিজনেস’ নিশ্চিত করাই তাঁর ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের মূল ভিত্তি হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁর এই ইতিবাচক বার্তা বাংলার বেকার যুবসমাজ এবং শিল্প মহলে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।