২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় আক্ষরিক অর্থেই ‘মহাপ্রলয়’ ঘটে গেল। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলার মসনদে বসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০০-রও বেশি আসনে জয় বা লিড নিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগোচ্ছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত ধসে গিয়ে নেমে এসেছে মাত্র ৮০-র ঘরে। এই ফলাফল কেবল সরকার পরিবর্তন নয়, বরং বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে একাধিক ‘হেভিওয়েট’ নেতার অস্তিত্ব সংকটে ফেলে দিয়েছে।
ভেঙে চুরমার তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি:
এবারের নির্বাচনের সবথেকে বড় চমক দেখা গিয়েছে কলকাতা ও সংলগ্ন শহরতলিতে। বিধাননগরের যে দুর্গ গত ১৫ বছর ধরে সুজিত বসুর দখলে ছিল, তা এবার ধুলিসাৎ করে দিলেন বিজেপির শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। প্রায় ৩১ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হলেন রাজ্যের এই প্রভাবশালী প্রাক্তন মন্ত্রী। একই ছবি উত্তর কলকাতায়। কাশীপুর-বেলগাছিয়াতে অতীন ঘোষকে হারিয়ে জয়ী হয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, শ্যামপুকুরে শশী পাঁজার দেড় দশকের একাধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে ১৪ হাজার ভোটে জয়ী হলেন বিজেপির পূর্ণিমা চক্রবর্তী।
পান্ডে গড়ের পতন ও রাসবিহারীতে ম্যাজিক:
মানিকতলায় সাধন পাণ্ডের প্রয়াণের পর তাঁর পরিবার যে রাজনৈতিক জমি আঁকড়ে ছিল, তাও এবার হাতছাড়া হল। বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী তাপস রায়ের কাছে পরাজিত হয়েছেন শ্রেয়া পান্ডে। রাসবিহারীর অভিজ্ঞ নেতা দেবাশিস কুমারও রক্ষা পাননি; তাঁকে প্রায় ১৮ হাজার ভোটে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপির স্বপন দেবনাথ। শুধু তৃণমূল নয়, বহরমপুরে নিজের খাসতালুকে পরাস্ত হয়েছেন কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের সেনাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীও। প্রায় ১৭ হাজার ভোটে হেরে গিয়েছেন তিনি।
জনগণের রায়ে পরিবর্তনের হাওয়া:
বিজেপি শিবিরে এখন অকাল হোলি। কর্মী-সমর্থকদের দাবি, ২০১১ সালে মানুষ যেভাবে সিপিএম-এর বিরুদ্ধে জোট বেঁধেছিল, ২০২৬-এ তৃণমূলের দুর্নীতি ও ‘জনবিচ্ছিন্নতা’র বিরুদ্ধে একইভাবে রায় দিয়েছে বাংলা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে জনরোষ— সবটাই বিজেপির এই ২০০ পার করার পালে হাওয়া দিয়েছে। নীলবাড়ি দখলের পর এখন নজর শপথগ্রহণের দিকে। আগামী ৯ মে রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনেই কি তবে বাংলায় নতুন সূর্যোদয় হবে? উত্তর দেবে সময়।





