বক্সা ছেড়ে অসমে ঘাঁটি গড়া বাঘিনিকে ফেরাতে বড় নির্দেশ এনটিসিএ-র! মঙ্গলবারই কি কেল্লাফতে?

বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে বেরিয়ে অসমে চলে যাওয়া বিখ্যাত বাঘিনি ‘বিটিআর টিএফ-১’ (BTR TF-1)-কে ফেরাতে গ্রিন সিগন্যাল দিল ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি (NTCA)। এই সবুজ সংকেত মিলতেই আসামের রাইমোনা জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় বাঘিনিটিকে নিরাপদে ধরার জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম—দুই রাজ্যের বনদফতর।
গত শনিবার পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামের বনদফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা এক উচ্চপর্যায়ের যৌথ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেন যে, বক্সা ছেড়ে রাইমোনা টাইগার রিজার্ভের সীমানায় আশ্রয় নেওয়া এই বাঘিনিকে পেশাদার বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে ট্র্যাঙ্কুলাইজ করে ফের বক্সায় ফিরিয়ে আনা হবে। সেই মতো তৎক্ষণাৎ এনটিসিএ-র কাছে দাফতরিক অনুমতির আবেদন জানানো হয়। তবে শনি ও রবিবার সরকারি দফতর বন্ধ থাকায় অনুমতি পেতে কিছুটা বিলম্ব হয়। অবশেষে সোমবার সেন্ট্রাল অথরিটির সিলমোহর মিলতেই তক্ষুণি আসামের রাইমোনা বনবিভাগে ছুটে যান পশ্চিমবঙ্গের বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ।
বনমন্ত্রী জানান, বক্সার অভিজ্ঞ বনকর্মী ও বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ দল গত সাত দিন ধরে একটানা রাইমোনার জঙ্গলে ক্যাম্প করে রয়েছে। বাঘিনিটি বর্তমানে যে সুনির্দিষ্ট জঙ্গল এলাকায় অবস্থান করছে, সেই পুরো অংশটি ইতিমধ্যেই শক্তিশালী জাল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার খাতিরে এবং অন্ধকারের মধ্যে অপারেশন চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সোমবার রাতে তাকে ধরার কোনো ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। সব ঠিকঠাক থাকলে মঙ্গলবার সকাল থেকেই পেশাদার ট্র্যাঙ্কুলাইজেশনের মাধ্যমে বাঘিনিকে অচেতন করে নিরাপদে বক্সা জঙ্গলে ফিরিয়ে আনার পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া শুরু হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিহারের বিখ্যাত বাল্মীকি ফরেস্ট থেকে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু করে খাঁচাবন্দি করা হয়েছিল ৩ বছরের এই বাঘিনিটিকে। এরপর ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ এমআই-১৭ (Mi-17) হেলিকপ্টারে করে এয়ার লিফট করে ৩০ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টে ৪৫ মিনিট নাগাদ হাসিমারা বায়ুসেনা ছাউনিতে নামানো হয় তাকে। সেখানে দুই বন্যপ্রাণ চিকিৎসক ও বাঘ বিশেষজ্ঞদের একটি দল প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বাঘিনির শারীরিক প্যারামিটার ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এরপর নিমতি হয়ে সড়কপথে সকাল ৬টা ৪৫ মিনিট নাগাদ রাজাভাতখাওয়া গেট অতিক্রম করে বক্সার অন্দরমহলে প্রবেশ করানো হয় তাকে। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ২৫ মাইলের একটি বিশেষ সংরক্ষিত বাঘ এনক্লোজারে তাকে রাখা হয়েছিল।
অবশেষে গত ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর পবিত্র দিনে ঘটা করে বক্সার জঙ্গলে উন্মুক্ত আকাশে ছাড়া হয় এই বাঘিনিটিকে। কিন্তু নতুন ঠিকানায় মানিয়ে নিতে না পেরে মাত্র এক মাসের মাথাতেই বক্সার সীমানা ছাড়ে সে। গত ২৩ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের সীমানা পার করে সরাসরি আসামে প্রবেশ করে বাঘিনিটি। সেখানে রাইমোনা ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে রাজেন্দ্রপুর বনগ্রামের কাছে প্রায় ১০০ বিঘা এলাকাজুড়ে বিস্তৃত একটি ঘন বাঁশঝাড়কে নিজের নতুন আস্তানা বানায় সে।
পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প ও রাইমোনা জাতীয় উদ্যানের যৌথ বনকর্তা ও বনকর্মীদের নিয়ে একটি স্পেশাল মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছিল। বিগত কদিন ধরে সেই বিশেষ দলটির নিবিড় নজরদারির ফলেই অবশেষে বাঘিনিটিকে বাগে এনে পুনরায় বক্সার জঙ্গলে ফিরিয়ে আনার এই অন্তিম অভিযান বাস্তবায়িত হতে চলেছে।