দীর্ঘ কয়েক দশকের আইনি লড়াই আর টালবাহানার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করল বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (DA) টাকা। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশিকা মেনে মার্চ মাসের মধ্যেই বকেয়ার প্রথম দফার কিস্তি মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে নবান্ন। কিন্তু টাকা হাতে আসতেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সরকারি কর্মচারীদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, প্রাপ্য হিসেবের তুলনায় অনেক কম টাকা জমা পড়ছে তাঁদের অ্যাকাউন্টে।
টাকা দেওয়ার পদ্ধতি ও ক্ষোভের কারণ: গত ১৩ মার্চ অর্থ দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ দুটি কিস্তিতে মেটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। যার প্রথম কিস্তি দেওয়া হচ্ছে চলতি মার্চ মাসে। কিন্তু কর্মীদের দাবি, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত যে বিপুল পরিমাণ বকেয়া জমে আছে, তার তুলনায় এই কিস্তির পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য। বিশেষ করে গ্রুপ এ, বি এবং সি কর্মীদের টাকা সরাসরি হাতে না দিয়ে তাঁদের প্রভিডেন্ট ফান্ড (GPF) অ্যাকাউন্টে জমা করা হচ্ছে, যা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ ও নবান্নর কৌশল: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়ার অন্তত ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। সরকারি সংগঠনগুলির অভিযোগ, সরকার আদালতের নির্দেশকে আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে দায় সারছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মচারী জানিয়েছেন, “বকেয়া ডিএ-র যে অংক আমরা আশা করেছিলাম, তার ধারেকাছেও নেই বর্তমান প্রাপ্তি। এটা অনেকটা চোখে ধুলো দেওয়ার মতো ব্যাপার।”
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের অবস্থান: ডিএ নিয়ে দীর্ঘ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’ ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছে। তাদের দাবি, পূর্ণাঙ্গ বকেয়া এবং কেন্দ্রীয় হারে ডিএ-র দাবিতে তাঁদের আন্দোলন চলবে। মার্চ মাসে এই আংশিক প্রদানকে তাঁরা ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সরকারের ‘নির্বাচনী গিমিক’ বলেও কটাক্ষ করেছেন।
অন্যদিকে, নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে যে, আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আদালতের নির্দেশ মানতে বদ্ধপরিকর রাজ্য। প্রথম দফায় ২০১৬-২০১৯ এর টাকা দেওয়া হলেও, ২০০৮-২০১৫ এর বকেয়া মেটানোর মডালিটি পরে জানানো হবে। টাকা কম দেওয়ার অভিযোগটি মূলত গণনার পদ্ধতির ভিন্নতার কারণে হতে পারে বলে মনে করছে অর্থ দপ্তর।