পারিবারিক অশান্তির জেরে স্ত্রীর ওপর রাগ গিয়ে পড়ল শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের ওপর। মাঝরাতে প্রায় ২০ জন অনুগামীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে চড়াও হয়ে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানার হরিহরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম সালেপুর এলাকায় এই বর্বরোচিত ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মূল অভিযুক্তের নাম রফিক খান।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মল্লিকপুরের বাসিন্দা রফিক খানের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর দীর্ঘদিনের বিবাদ চলছিল। অশান্তি চরমে ওঠায় সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে আসেন স্ত্রী। স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে না পেরে চরম আক্রোশ জন্মায় রফিকের মনে। অভিযোগ, সেই আক্রোশ মেটাতেই বৃহস্পতিবার রাতে দলবল নিয়ে পশ্চিম সালেপুরে শ্বশুরবাড়িতে হানা দেয় সে।
মধ্যরাতে রক্তক্ষয়ী তাণ্ডব
রাত তখন গভীর। হঠাৎই রফিক এবং তার পরিবারের প্রায় ২০ জন সদস্য লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই বাড়িতে চড়াও হয়।
আক্রান্ত শ্যালক: রফিকের শ্যালক শফিক সর্দারকে প্রথমে বেধড়ক মারধর করা হয়।
মামার ওপর হামলা: সেই সময় শফিকের বাড়িতেই ছিলেন তাঁর ব্যবসায়ী মামা আমির সোহেল শেখ। বাধা দিতে গেলে আমির সোহেলকে মাটিতে ফেলে তাঁর মাথায় ক্ষুর দিয়ে একাধিক আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ।
আক্রান্তদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে রফিক ও তার দলবল ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় আমির সোহেল শেখ ও শফিক সর্দারকে উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমির সোহেলের মাথায় গভীর ক্ষত থাকায় তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ইতিমধ্যেই বারুইপুর থানায় রফিক খান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে অভিযুক্ত রফিক ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা। মল্লিকপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এই বাসিন্দাদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে বারুইপুর থানার পুলিশ।
“রাতের অন্ধকারে হঠাৎ চিৎকার শুনে এসে দেখি আমির ভাই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। রফিক আর ওর লোকেরা বাইক নিয়ে পালিয়ে গেল। সামান্য পারিবারিক অশান্তি থেকে যে এমন খুনের চেষ্টা হতে পারে, তা ভাবিনি।”