ফ্ল্যাটের বাথরুমে ড্রামের ভিতর যুবকের খণ্ডিত মৃতদেহ! মহারাষ্ট্রে চাঞ্চল্য, প্রেমিকাকেই খুনের জোরালো সন্দেহ

মহারাষ্ট্রের থানে জেলার কল্যাণ এলাকা থেকে এক লোমহর্ষক ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যা পুরো এলাকasını স্তম্ভিত করে দিয়েছে। একটি তালাবন্ধ ফ্ল্যাটের বাথরুমে রাখা প্লাস্টিকের ড্রামের ভিতর থেকে এক যুবকের পচাগলা, খণ্ড-বিখণ্ড মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের জোরালো সন্দেহ, ওই যুবককে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় খুন করেছেন তাঁরই প্রেমিকা। খুনের পর সমস্ত প্রমাণ লোপাট করার অসৎ উদ্দেশ্যে বাথরুমের কল সম্পূর্ণ খোলা রেখেই ওই তরুণী কলকাতা পালিয়ে গেছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে কল্যাণের মালাং রোড সংলগ্ন নীলকণ্ঠ সোসাইটির একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে। গত দুই থেকে তিন দিন ধরে ওই নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট থেকে তীব্র ও অসহ্য দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। দুর্গন্ধের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয় এবং তাঁরা বাধ্য হয়ে মানপাড়া থানায় খবর দেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান এবং অ্যাপার্টমেন্টটি বাইরে থেকে তালাবন্ধ দেখতে পান।
পুলিশ প্রথমে ফ্ল্যাটের চারপাশের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এবং পরে দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি শুরু করে। ফ্ল্যাটের প্রতিটি ঘরে তল্লাশি চালানোর সময় বাথরুমে প্রবেশ করতেই নাকে তীব্র দুর্গন্ধ আসে। বাথরুমের ভেতরে রাখা একটি বড় প্লাস্টিকের ড্রামের ভিতর সন্দেহজনক একটি ভারী বস্তা দেখতে পান তদন্তকারী অফিসাররা। এরপর সেই বস্তাটি বাইরে বের করে খোলার পরই তাঁদের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। ড্রামের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় এক যুবকের পচে-গলে যাওয়া মৃতদেহ। শুধু তাই নয়, অপরাধের তীব্রতা বোঝাতে মৃতদেহটি একাধিক টুকরো করে ড্রামের মধ্যে ঠাসা ছিল।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পিছনে প্রেমঘটিত কোনো গোলযোগ বা ব্যক্তিগত রেষারেষি থাকতে পারে। নিহত যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে এবং তাঁর শরীরের অংশগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রেমিকা ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন এবং তাঁকে গ্রেফতারে ইতিমধ্যেই পুলিশের একাধিক দল তল্লাশি শুরু করেছে। প্রকাশ্য এই ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।