উপবাস করলেই কি সুগার কমে? ডায়াবেটিস থাকলে নবরাত্রিতে এই ভুল করলে বিপদে পড়বেন!

চলতি বছরের ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলেছে শারদীয় নবরাত্রি। ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের দিক থেকেও উপবাসের নানা উপযোগিতা রয়েছে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য দীর্ঘক্ষণ উপবাস রাখা এবং এই সময়ে খাওয়া-দাওয়া নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তি ও জল্পনা রয়েছে। অনেকেরই ধারণা, উপবাসের সময় খাওয়া সমস্ত খাবারই স্বাস্থ্যকর। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক নয়।
নবরাত্রির ৯ দিন টানা উপবাস করার আগে ডায়াবেটিস রোগীদের কয়েকটি বিশেষ বিষয়ে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত এবং উপবাসের সময় রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কী করণীয়, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতামত ও ভুল ধারণা
নয়েডার যশোর্থ সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিনের সিনিয়র কনসালটেন্ট এবং ইউনিট হেড ডাঃ নিশান্ত সিং জানান, ডায়াবেটিস রোগীদের একটি বড় ভুল ধারণা হলো—খালি পেটে বা উপবাসের খাবার রক্তে শর্করা বাড়ায় না। সাগু, আলু, কুঁদরি বা সিংড়ার আটা দিয়ে তৈরি উপবাসের খাবারেও প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা বেশি পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হু হু করে বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষ করে সাগুর পায়েস, আলু ভাজা কিংবা লুচির মতো খাবার অত্যন্ত পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। অন্যদিকে, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার কারণে অনেক রোগীর রক্তে শর্করা বিপজ্জনকভাবে কমেও যেতে পারে, বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত ইনসুলিন বা সুগার কমানোর নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন করেন।
উপবাসের সময় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য জরুরি কিছু টিপস
খাবারের পরিমাণ ও মান: উপবাসের সময় শুধু কী খাচ্ছেন সেটাই নয়, বরং কতটা খাচ্ছেন সেদিকেও তীক্ষ্ণ নজর রাখা দরকার।
সুষম আহার: খাদ্যতালিকায় ফল, টকদই, পনির এবং ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার রাখুন।
পর্যাপ্ত জল: শরীরে জলের ঘাটতি এড়াতে সারাদিন প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন।
নিয়মিত সুগার চেক: নিয়মিত বিরতিতে রক্তের শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করুন।
ডাক্তারের পরামর্শ: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনোই উপবাসের অজুহাতে নিজের ওষুধের মাত্রা বা সময় পরিবর্তন করবেন না।
দীর্ঘক্ষণ উপবাস কি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস থাকা অবস্থায় দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা সবার জন্য নিরাপদ নয়। বিশেষ করে যাঁরা ইনসুলিন বা শক্তিশালী ওষুধ নেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ‘হাইপোগ্লাইসেমিয়া’ বা রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে যায়। একটানা না খেয়ে থাকলে ডিহাইড্রেশন বা তীব্র জলশূন্যতার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে গেলে রোগীর শরীরে অতিরিক্ত দুর্বলতা, ঠান্ডা ঘাম হওয়া, মাথা ঘোরা, অস্থিরতা এবং বিভ্রান্তির মতো গুরুতর লক্ষণ প্রকাশ পায়। তাই টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগী, ইনসুলিন ব্যবহারকারী কিংবা যাঁদের কিডনি বা হৃদরোগের মতো জটিলতা রয়েছে, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘক্ষণ উপবাস করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।