“ফ্যানে ৩ মহিলার ঝুলছে দেহ, বাথরুমে ২ পুরুষ!”-গোটা পরিবার সুইসাইড? চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে!

অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীশৈলম তীর্থক্ষেত্রে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনায় গোটা দেশে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পবিত্র তীর্থযাত্রায় গিয়ে একটি বেসরকারি লজের ঘর থেকে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, অতিরিক্ত ঋণ এবং মারাত্মক আর্থিক অনটনের জেরে এই পরিবারটি চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিল, যার পরিণাম হিসেবেই এই যৌথ আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই ভয়াবহ ঘটনায় শুধু স্থানীয় এলাকা নয়, গোটা রাজ্য জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃতরা সকলেই অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীসত্য সাঁই জেলার বাট্টালাপল্লি গ্রামের বাসিন্দা। গত ২৮ জুলাই একটি অটো করে তাঁরা পুণ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে শ্রীশৈলমে আসেন এবং সেখানকার একটি বেসরকারি ভাড্ডেরা সত্রের ১১ নম্বর ঘরটি ভাড়া নেন। প্রাথমিক ভাবে দুটি রুম বুক করা হলেও লজের একটি নির্দিষ্ট অংশ থেকেই এই ভয়াবহ মর্মান্তিক পরিণতি সামনে আসে। টানা প্রায় তিন দিন ধরে ওই পরিবারের কোনো সদস্যকে ঘরের বাইরে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়নি। এর পরেই লজ কর্তৃপক্ষের মনে তীব্র সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি আরও সন্দেহজনক হয়ে ওঠে যখন বন্ধ ঘরের ভিতর থেকে উৎকট দুর্গন্ধ বাইরে বেরোতে শুরু করে। কালক্ষেপ না করে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করতেই এক ভয়াবহ দৃশ্যের মুখোমুখি হয়। তদন্তকারীরা দেখতে পান, ঘরের বিভিন্ন প্রান্তে ঝুলছে নিথর দেহ। তিন জন মহিলার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে সিলিং ফ্যান থেকে, আর অন্য একটি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ও এক কিশোরের দেহ ঝুলছিল বাথরুমের ভেতর থেকে।
মৃতদের পরিচয় প্রকাশ করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন সুধাকর (৩৬), গোগুলা আদিলক্ষ্মী (৫০), মল্লেশ্বরী (৪৫), শ্রীদেবী (৩৩) এবং মণিকণ্ঠ (১৫)। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে যে সুধাকর অবিবাহিত ছিলেন। তাঁর দুই বোনের বিয়ে হয়েছিল বটে, তবে স্বামীদের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তাঁরা দুজনেই পুনরায় বাপের বাড়িতেই বসবাস করছিলেন। একসঙ্গে পুরো পরিবার এই মর্মান্তিক পথ বেছে নেওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে গভীর শোক ও দানা বেঁধেছে রহস্য।
প্রাথমিক ভাবে পুলিশ একে আত্মহত্যা বলেই অনুমান করছে এবং মনে করা হচ্ছে বিশাল পরিমাণ ঋণের বোঝা শোধ করতে না পারার ফলেই এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সব দিক খোলা রেখে তদন্ত শুরু করেছে আত্মাকুরের পুলিশ। ইতিমধ্যেই পাঁচটি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বাট্টালাপল্লিতে মৃতদের পরিবারের অন্য সদস্যদের এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর দেওয়া হয়েছে।