মালদার মোথাবাড়িতে বিচারকদের সাড়ে সাত ঘণ্টা ঘেরাও ও হেনস্থার ঘটনায় এবার চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের কড়া হুঁশিয়ারির পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্পষ্ট হয়ে গেল—এই নজিরবিহীন ঘটনার তদন্ত করবে সিবিআই (CBI)। একইসঙ্গে প্রশাসনের গাফিলতি নিয়ে খোদ মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজিপি-কে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হলো কমিশনের।
তদন্তে সিবিআই: সুপ্রিম নির্দেশের পর বড় পদক্ষেপ বৃহস্পতিবার সকালেই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, মালদা কাণ্ডের তদন্তভার এনআইএ (NIA) বা সিবিআই-এর হাতে তুলে দিতে পারে কমিশন। আদালতের পর্যবেক্ষণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কমিশন জানিয়ে দেয়, ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকেই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে রাজ্য পুলিশের হাত থেকে তদন্তভার চলে যাচ্ছে সিবিআই-এর হাতে।
মুখ্যসচিবের ওপর ক্ষুব্ধ নির্বাচন কমিশনার বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যখন বৈঠক চলছিল, তখন দিল্লির কমিশন দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। সূত্রের খবর, মালদার পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থতা নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নজিরবিহীনভাবে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যসচিবের ওপর। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার সময় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি খোদ মুখ্যসচিবকে ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। এই চূড়ান্ত অপেশাদারিত্ব নিয়ে তাঁকে কড়া কথা শুনিয়েছেন কমিশনার।
রোষের মুখে সিবি ও ডিজি মুখ্যসচিব ছাড়াও এদিনের বৈঠকে দিল্লির রোষানলে পড়েন কলকাতার পুলিশ কমিশনার, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি। নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থতার কারণ দর্শাতে হিমশিম খেতে হয় রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের। পাশাপাশি মালদা ডিভিশনের কমিশনার পদেও বড় রদবদল ঘটিয়েছে কমিশন। গুলাম আলি আনসারিকে তাঁর অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে এখন থেকে শুধুমাত্র মালদা ডিভিশনের পূর্ণাঙ্গ কমিশনারের দায়িত্ব সামলাতে বলা হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কারা? এদিনের হাইভোল্টেজ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা), সমস্ত জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO), পুলিশ কমিশনার ও পুলিশ সুপাররা।
মালদার এই ঘটনা যে কেবলমাত্র একটি স্থানীয় বিক্ষোভ নয়, বরং জাতীয় স্তরে প্রশাসনিক ব্যর্থতার এক বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সিবিআই তদন্তের নির্দেশেই তা পরিষ্কার। ভোটমুখী বাংলায় এই পদক্ষেপ শাসক শিবিরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





