প্রায় এক বছর আগে চুরি যাওয়া বহু মূল্যের সোনার গহনা উদ্ধার হলো এবং অভিযুক্ত পরিচারিকাকে গ্রেফতার করল বরানগর থানার পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় রহস্যের কিনারা হয়েছে একটি ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে কলকাতার এমএনকে রোডের বাসিন্দা পরিমিতা মণ্ডল বরানগর থানায় তাঁর বাড়ি থেকে বহু মূল্যবান সোনার গহনা চুরির অভিযোগ দায়ের করেন। সেই সময় পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও চুরির কোনো সূত্র খুঁজে পাচ্ছিল না।
সম্প্রতি, পরিমিতা মণ্ডল হঠাৎ করেই তাঁর সাবেক পরিচারিকা দীপা দাসের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ছবি দেখতে পান। সেই ছবিতে দীপা দাসকে চুরি যাওয়া গহনাগুলি পরেই পোজ দিতে দেখা যায়। এই ছবি দেখেই পরিমিতা মণ্ডলের সন্দেহ হয় এবং তিনি অবিলম্বে বিষয়টি বরানগর থানায় জানান।
ফেসবুকে পোস্ট করা এই ছবির সূত্র ধরেই বরানগর থানার পুলিশ নতুন করে তদন্ত শুরু করে। ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট অনুসরণ করে পুলিশ ডানকুনির একটি ঠিকানা খুঁজে বের করে, যেখানে অভিযুক্ত দীপা দাস বর্তমানে বসবাস করছিলেন।
রবিবার বরানগর থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে দীপা দাসকে ডানকুনি থেকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপা দাস চুরির কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হরিণঘাটার তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া সমস্ত সোনার গহনা উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনাটি প্রযুক্তির ব্যবহার করে অপরাধীদের ধরতে কতটা কার্যকর হতে পারে, তার একটি বড় প্রমাণ। প্রায় এক বছর ধরে অধরা থাকা চোরকে একটি সাধারণ ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে, যা পুলিশের তদন্তে এক নতুন দিক খুলে দিয়েছে। ধৃত দীপা দাসের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পেশ করা হবে।