ফের সুখবর! শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারিতে জন্ম নিল ৩টি সিংহ শাবক, বাড়ল সদস্য

খুশির আবহ ফের একবার শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি পার্কে। বাড়ল পার্কের সদস্য সংখ্যা, আলো করে এল নতুন তিন খুদে অতিথি। সিংহ দম্পতি সুরজ ও তনয়ার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছে তিনটি ফুটফুটে শাবক। পার্ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, সদ্যোজাত শাবকরা বর্তমানে সুস্থ রয়েছে। তবে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

স্মরণীয়, প্রায় দু’বছর আগে ত্রিপুরা থেকে সুরজ ও তনয়াকে বেঙ্গল সাফারি পার্কে আনা হয়েছিল। আগমনের কিছুদিন পরেই তারা প্রথমবার সন্তানের জন্ম দেয়, তবে সেই শাবকদের মধ্যে একটি মারা যায় এবং আরেকটি বর্তমানে সাফারির মধ্যেই বড় হয়ে উঠছে। এরপর মাত্র পাঁচ মাস আগেই এই সিংহ দম্পতি ফের সন্তানের জন্ম দিল, এবং এবার একসঙ্গে তিনটি শাবকের জন্ম দিয়ে তারা পার্ক কর্তৃপক্ষকে নতুন করে আনন্দে ভাসিয়ে দিয়েছে। একসঙ্গে এতগুলি শাবকের জন্ম নিঃসন্দেহে পার্কের প্রাণী সংরক্ষণ এবং প্রজনন নীতির ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে, বেঙ্গল সাফারির প্রাণীসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যটকদের ভিড়ও দিনদিন বাড়ছে। প্রতিদিনকার সাফারি রাইডে ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা পার্কের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে।

নতুন প্রাণী এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার:

সম্প্রতি আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে বেঙ্গল সাফারিতে আনা হয়েছে আরও ১৮টি নতুন প্রাণী, যার মধ্যে রয়েছে ঘড়িয়াল ও কালো ভালুকও। তবে, নতুন এই অতিথিদের আপাতত রাখা হয়েছে কোয়ারেন্টাইনে। পার্ক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের আগে এগুলিকে সম্ভবত দর্শকদের সামনে আনা হবে না। বেঙ্গল সাফারিতে ক্রমবর্ধমান পর্যটকের চাপ সামলাতে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পার্ক চত্বরে একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি চালু হচ্ছে। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার সি সুধাকর জানিয়েছেন, একজন অফিসার, দু’জন এএসআই এবং পাঁচজন কনস্টেবলকে নিয়ে গঠিত এই ইউনিট চলতি সপ্তাহেই কাজ শুরু করবে।

পার্কের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:

এদিন সাফারি পার্কে বনমহোৎসব উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। তিনি জানান, তাঁর প্রস্তাবের ভিত্তিতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পার্ক তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মেয়র আরও বলেন, বর্তমানে পার্কে একটি গন্ডার ও একটি হাতি রয়েছে এবং তাদের একাকিত্ব দূর করতে আরও একটি করে প্রাণী আনার প্রয়োজন। পাশাপাশি জিরাফ ও ক্যাঙারু আনারও পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। তাঁর মতে, এই সমস্ত উদ্যোগের মাধ্যমে পার্কটি একদিন একটি পূর্ণাঙ্গ চিড়িয়াখানার রূপ নেবে।

তিনটি নতুন সিংহ শাবকের জন্ম পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং পশুপ্রেমীদের কাছে নিঃসন্দেহে এক আনন্দঘন খবর। তবে কবে দর্শনার্থীরা এই নতুন অতিথিদের সরাসরি দেখতে পাবেন, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি।