ফের বন্ধ বাংলা-সিকিম লাইফ লাইন ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক! ধসে রাস্তার বড় অংশ খাদে, পর্যটকদের ৪ ঘণ্টা অতিরিক্ত ভোগান্তি

গত শনিবারের ভয়াবহ ধসের রেশ পুরোপুরি কাটতে না কাটতেই ফের খারাপ খবর পাহাড়ে। এবার আচমকা একাধিক ধস নামায় বাংলা এবং সিকিমের যোগাযোগের লাইফ লাইন ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক (National Highway 10) সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেল। এর ফলে আরও একবার পাহাড়ের পর্যটন মারাত্মকভাবে ধাক্কা খেল বলে মনে করা হচ্ছে।
রাস্তার এক-তৃতীয়াংশই খাদে, পর্যটকরা বিপাকে
বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সড়কের একাধিক জায়গায় ধস নামে। কোথাও কোথাও রাস্তার এক-তৃতীয়াংশই ধসে গিয়ে খাদে তলিয়ে যাওয়ার খবর মিলেছে। এর ফলে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তায় বিশাল বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন পর্যটকরা। শুক্রবার সকালেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
জানা গিয়েছে, ২৯ মাইল থেকে গেইলখোলা যাওয়ার পথে বিভিন্ন জায়গায় ধস নেমেছে। একাধিক জায়গায় রাস্তার বিস্তীর্ণ অংশ পুরোপুরি ধসে যাওয়ায় এখনই ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক চালু করার আশা দেখছেন না প্রশাসনের কর্তারা। নতুন করে ধস নামলে সংস্কারের কাজও ব্যাহত হতে পারে।
৪ ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় লাগবে গন্তব্যে পৌঁছতে
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবে যান চলাচল বন্ধ থাকায় বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। বর্তমানে সেবক থেকে লাভা এবং আলগাড়া হয়ে গরুবাথান দিয়ে কালিম্পং ও সিকিমে গাড়ি চলাচল করানো হচ্ছে। এই ঘুরপথে যাতায়াত করতে পর্যটকদের অতিরিক্ত চার ঘন্টা সময় লাগছে বলে জানা গিয়েছে।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ
কালিম্পংয়ের জেলাশাসক বালাসুব্রহ্মণ্যম টি জানান, “রাতে ওই সড়কের একাধিক জায়গায় ধস নামে। কোথাও রাস্তায় বড় বড় গর্ত হয়েছে। আবার কোথাও রাস্তার বেশিরভাগ অংশ ধসে গিয়েছে। সেজন্য যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এনএইচআইডিসিএল (NHIDCL) কাজ করছে।”
জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পাহাড় কেটে পথ অন্তত ছয় ফুট প্রশস্ত করতে হবে। শুক্রবার সকাল থেকে রাস্তা পরিষ্কার এবং সারানোর কাজ শুরু হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন ধস কবলিত জায়গাগুলোতে ব্যারিকেড লাগিয়ে দিয়েছে। এনএইচআইডিসিএল এবং জিটিএ (GTA) ধস সংস্কারের কাজে নেমেছে। তবে এই পরিস্থিতিতে অনেক পর্যটকদের গাড়ি সহ প্রচুর যানবাহন সড়কে আটকে পড়েছে।