ফিল্মি কায়দায় দিনদুপুরে সোনার দোকানে হানা! পিস্তলের মুখে লক্ষাধিক টাকার গয়না লুট, ভাইরাল সিসিটিভি ফুটেজ

মহারাষ্ট্রের নাগপুর শহরে সংঘটিত হয়েছে এক চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক ডাকাতির ঘটনা। প্রকাশ্য দিবালোকে শহরের একটি অভিজাত জুয়েলারি দোকানে হানা দিয়ে লক্ষাধিক টাকার সোনা ও রূপোর গয়না লুঠ করে চম্পট দিয়েছে একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী। সম্পূর্ণ ঘটনাটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, যা বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঘটনার দিন দুপুরে হঠাৎ করেই চার থেকে পাঁচ জন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী ওই গয়নার দোকানে প্রবেশ করে। অপরাধের পরিকল্পনা অত্যন্ত সুচারু হওয়ায় তাদের মধ্যে কয়েকজন হেলমেট পরে ছিল, যাতে তাদের মুখ বা পরিচয় সহজে শনাক্ত করা না যায়। দোকানে ঢুকেই তারা নিজেদের আসল রূপ প্রকাশ করে। তাদের মধ্যে একজন দুষ্কৃতী সঙ্গে সঙ্গে তার কাছে থাকা একটি আগ্নেয়াস্ত্র বা পিস্তল বের করে সরাসরি দোকানদার ও সেখানে উপস্থিত কর্মচারীদের দিকে তাক করে। পিস্তলের মুখে তাদের জিম্মি করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়, যাতে কেউ প্রতিবাদ করার বা প্রতিরোধ গড়ার ন্যূনতম সুযোগ না পায়।

এদিকে, প্রধান অভিযুক্ত যখন অস্ত্র দেখিয়ে সবাইকে ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল, ঠিক সেই সময় তার অন্য সহযোগীরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে দোকানের কাঁচের ডিসপ্লে কাউন্টার ও তাক ভেঙে তছনছ করতে শুরু করে। তারা ক্যাশ বাক্স এবং ডিসপ্লে থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা, রূপো ও অন্যান্য বহুমূল্যবান অলংকার ঝুটে নেয় এবং সঙ্গে আনা বড় বড় ব্যাগে তা ভরে ফেলতে থাকে। চোখের পলকে ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক তাণ্ডবে দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা সম্পূর্ণ স্তম্ভিত হয়ে পড়েন।

লুঠপাট সম্পন্ন হওয়ার পর পরই অভিযুক্তরা মুহূর্তের মধ্যে দোকান থেকে বেরিয়ে বাইরে আগে থেকে প্রস্তুত রাখা তাদের বাইকগুলিতে চড়ে বড়ে। এরপর দ্রুতগতিতে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় তারা। ঘটনার পরপরই দোকান মালিকের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। পুলিশ আধিকারিকরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা খতিয়ে দেখছেন এবং অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। আশেপাশের এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ এবং পালিয়ে যাওয়ার রুট ট্র্যাক করে দুষ্কৃতীদের পাকড়াও করতে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে নাগপুর পুলিশ। দিনের আলোয় এমন দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।