ফিরহাদ হাকিমের ‘স্নায়ুচাপ’ বাড়ালেন অভিষেক! প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাড়ে তিন ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক

যখন লাগাতার বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতা নিয়ে বর্তমান মেয়র ফিরহাদ হাকিম সমালোচনার মুখে, ঠিক তখনই তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বড় পদক্ষেপ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা উসকে দিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেন অভিষেক। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শোভনের বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলে এই বৈঠক। বৈঠক সেরে বেরিয়ে শোভন ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় স্পষ্ট ইঙ্গিত, প্রাক্তন মেয়রের দলে ফেরা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা মাত্র, যা নিঃসন্দেহে বর্তমান মেয়র ফিরহাদ হাকিমের জন্য স্নায়ুচাপ বাড়াবে।

শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বার্তা: ‘তৃণমূল আমার কাছে পরিবার’
বৈঠক শেষে শোভন চট্টোপাধ্যায় জানান, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা হয়েছে। ও অনেক পরিপক্ব ও পরিণত। অভিষেকের সঙ্গে সাক্ষাতে আমি মুগ্ধ, সমৃদ্ধ।”

তৃণমূল কংগ্রেসে ফেরা বা সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া নিয়ে শোভন বলেন, “এ ব্যাপারে যাবতীয় সিদ্ধান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক নেবেন। আমি আবার কাজ করতে চাই। রাজনীতিতে ফিরতে চাই এবং সেটা তৃণমূলেই থেকে। কারণ, তৃণমূল আমার কাছে শুধু একটা রাজনৈতিক দল নয়, পরিবারও, রক্তের সম্পর্ক।”

বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় এই বৈঠককে ‘শ্রেষ্ঠ শারদ উপহার’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “শোভনের সক্রিয়তা এখন শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।” তিনি আরও জানান, আজ তিনি শোভন-অভিষেকের ‘পরস্পরের প্রতি আবেগ’ দেখার সুযোগ পেয়েছেন।

ফিরহাদ হাকিমের ওপর চাপ বৃদ্ধির কারণ
সম্প্রতি ফিরহাদ হাকিম হিডকোর চেয়ারম্যানের পদ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, গত সোমবার রাতভর বৃষ্টিতে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কলকাতার একাধিক এলাকা জলমগ্ন থাকায় মেয়র হিসেবে তাঁর দিকে অভিযোগের তীর উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিপর্যয়ের জন্য মেট্রো রেলের কাজকে দায়ী করলেও, ফিরহাদ পুরোপুরি চাপমুক্ত নন।

এই পরিস্থিতিতে, কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের দীর্ঘ বৈঠক নিঃসন্দেহে বর্তমান মেয়র ফিরহাদ হাকিমের চাপ বাড়িয়ে দেবে। তৃণমূল সূত্রের খবর, অভিষেক-ফিরহাদের সম্পর্ক মোটেও স্বাচ্ছন্দ্যের নয়। এই বৈঠকটি শোভনের ‘ঘরে ফেরা’র দরজা আরও প্রশস্ত করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে বিজেপি-তে যোগ দিলেও শোভনকে সেখানে সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। ২০২১ সালে বিজেপি ছাড়ার পর থেকেই তাঁর তৃণমূলে ফেরা নিয়ে জল্পনা চলছিল, যা এবার চূড়ান্ত রূপ পেতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।