ফালাকাটায় পুলিশের নজিরবিহীন ঝটিকা অভিযান! আন্তর্জাতিক সুপারি পাচারকারীর হাতেনাতে গ্রেফতারিতে শোরগোল

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যে কোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লাগাতার ‘জিরো টলারেন্স’ বা আপোসহীন নীতির বার্তা দিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে বেআইনি কাজকর্ম ও অপরাধমূলক চক্রের বাড়বাড়ন্ত রুখতে পুলিশ-প্রশাসনকে তিনি পূর্ণ স্বাধীনতা বা ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দিয়েছেন। সেই কঠোর ও আপোসহীন অবস্থানেরই এক বড় প্রমাণ মিলল উত্তরবঙ্গে।
ফালাকাটায় আন্তর্জাতিক বেআইনি সুপারি চোরাচালান চক্রের পর্দাফাঁস করে জেলা পুলিশের নজিরবিহীন সাফল্যে সোশাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে রীতিমতো পিঠ চাপড়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ফালাকাটায় জোড়া সাফল্য ও বিরাট উদ্ধার: আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিশের অধীন ফালাকাটা থানার পুলিশ সুনির্দিষ্ট গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে একাধিক গুদামে একযোগে ঝটিকা অভিযান চালায়। এই সাঁড়াশি অভিযানে উদ্ধার হয়েছে অবিশ্বাস্য পরিমাণের— ১ লক্ষ ১৭ হাজার ২০০ কেজি বেআইনি সুপারি! ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে স্থান থেকেই বাপ্পন সাহা ও সুজন বর্মন নামে দুই মূল অভিযুক্তকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, বাজেয়াপ্ত হওয়া এই বিপুল পরিমাণ সুপারির একটি বড় অংশই বিদেশি উৎসের। আন্তর্জাতিক সীমান্ত গলিয়ে কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ সামগ্রী এ রাজ্যে ঢুকল এবং কোথায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সোশাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর বড় বার্তা: উত্তরবঙ্গে এই মেগা চক্রটির হদিশ মেলায় আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী সোশাল মিডিয়ায় জানান, রাজ্যজুড়ে যেকোনো ধরনের বেআইনি ব্যবসা, চোরাচালান এবং সংগঠিত অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে সরকার সবসময় জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করে চলেছে।
তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, “আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপরাধ দমনে পুলিশ অত্যন্ত সক্রিয় ও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে।” সেই সঙ্গে সমাজবিরোধী ও অবৈধ কাজে জড়িত কাউকেই কোনো পরিস্থিতিতে রেয়াত করা হবে না বলে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক মহলের মতে, পুলিশকে দেওয়া পূর্ণ স্বাধীনতার কারণেই এই ধরনের বড় সাফল্য পাওয়া সম্ভব হয়েছে।
আন্তর্জাতিক চক্রের খোঁজে পুলিশ: পুলিশের অনুমান, ধৃত বাপ্পন ও সুজন কেবল এই পাচার প্রক্রিয়ার সামনের মুখ ছিল। এর পেছনে একটি শক্তিশালী আন্তঃরাজ্য তথা আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্র সক্রিয় রয়েছে। সেই চক্রের শিকড় কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে এবং নেপথ্যের প্রভাবশালী মাথাদের চিহ্নিত করতে ইতিমধ্যেই ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গে বেআইনি পাচার চক্রের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে এই অভিযানকে সাম্প্রতিক সময়ের একটি বিশাল সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।