শাশুড়ির সঙ্গে তুমুল ঝামেলার পরেই ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার গৃহবধূর নিথর দেহ! পণের বলি প্রাক্তন আইটি কর্মী?

পুনের মাটিতে ফের এক মর্মান্তিক পারিবারিক ও পণপ্রথার বলি হওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এল। শাশুড়ির সঙ্গে তুমুল অশান্তির ঠিক পরেই ঘর থেকে এক প্রাক্তন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, পণের লোভ এবং পুত্রসন্তান জন্ম না দেওয়ার আক্রোশেই শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা ওই গৃহবধূকে খুন করেছেন। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মৃতার স্বামী অক্ষয়কে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে।
১০ ভরি সোনা ও কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার অপরাধ: সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ৩৪ বছর বয়সি গৃহবধূর নাম পায়েল জামব্রে পাতিল। বেশ কয়েক বছর আগে অক্ষয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে।
পায়েলের পরিবারের বিস্ফোরক অভিযোগ, ২০২৩ সালে পায়েল কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ার পর থেকেই তাঁর ওপর শ্বশুরবাড়ির মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চরম আকার ধারণ করে। পুত্রসন্তান না হওয়ায় স্বামী ও শাশুড়ি তাঁকে নানাভাবে তিরস্কার করতেন এবং সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ওই নাতনির কোনো দায়িত্ব তাঁরা নেবেন না। শুধু তাই নয়, পণের দাবিতেও নিয়মিত চলত অত্যাচার। প্রতি দীপাবলিতে ১০ ভরি সোনা উপহার দেওয়ার জন্য শাশুড়ি কড়াকড়ি করতেন। এমনকি চলতি বছরেও ১০ ভরি সোনার দাবি জানানো হলে পায়েলের পরিবার জানিয়েছিল যে, তারা পরের বছর এই দাবি পূরণ করতে পারবে। কিন্তু সেই অপেক্ষাও আর করল না ঘাতকরা।
কীভাবে প্রকাশ্যে এল ঘটনাটি? পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার রাতে শাশুড়ির সঙ্গে একটি তীব্র কথাকাটাকাটি ও ঝামেলা হয়েছিল পায়েলের। এর পর সোমবার সকালে ওই আবাসনেরই অন্য একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁর ঝুলন্ত বা নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। সবচেয়ে চাঞ্চল্যের বিষয় হলো, সোমবার সকাল পর্যন্ত স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কেউ ঘটনাই পায়েলের পরিবারকে জানায়নি। পরে পরিবারের লোকজন এসে জোর করে অন্য ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে পায়েলের দেহ উদ্ধার করেন।
পুলিশের তদন্ত ও স্বামী গ্রেপ্তার: মৃত গৃহবধূর পরিবারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুনে পুলিশ পণের দাবিতে হত্যা এবং গার্হস্থ্য হিংসার ধারায় মামলা রুজু করেছে। মূল অভিযুক্ত স্বামী অক্ষয়কে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় জড়িত বাকি অভিযুক্তদের সন্ধানে পুলিশ একাধিক বিশেষ দল গঠন করে জোরদার তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত সত্য কী, তা জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।