মোদী সরকারের এত সাহায্য সত্ত্বেও জাকির নায়েককে কেন ভারতের হাতে তুলে দিচ্ছে না মালয়েশিয়া? ফাঁস আসল সত্য!

মোস্ট ওয়ান্টেড পলাতক বিতর্কিত ধর্মগুরু জাকির নায়েককে (Zakir Naik) ভারতের হাতে হস্তান্তরের সমস্ত জল্পনা ও আশার স্থায়ী অবসান ঘটিয়ে দিল মালয়েশিয়া। দেশটির সংসদে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভারত সরকারের কাছে জাকির নায়েককে হস্তান্তর করার বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের কোনো আইনি অঙ্গীকার বা বাধ্যবাধকতা নেই। ২০১০ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ স্বরাষ্ট্র আইনের ওপর ভিত্তি করেই কুয়ালালামপুর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে স্পষ্ট করেছেন মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিয়ন ইসমাইল। এমনকি ভারতের পক্ষ থেকে সম্প্রতি নতুন কোনো প্রত্যর্পণের অনুরোধও আসেনি বলে দাবি করা হয়েছে।
টাকার তছরুপ থেকে নিষিদ্ধ ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন: ভারতে অর্থপাচার, বিদ্বেষ ছড়ানো এবং অত্যন্ত উসকানিমূলক বক্তব্যের গুরুতর অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে ফোঁস খুঁজছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। ২০১৬ সালে ভারত সরকার তাঁর এনজিও ‘ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ (IRF)-কে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরপর দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে মালয়েশিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা হন জাকির নায়েক। ভারত সরকারের তরফে প্রথম ২০১৮ সালে এবং পরবর্তীতে ২০২০ সালেও কূটনৈতিক নোটিশ পাঠিয়ে জাকিরকে ফিরিয়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই সেই আবেদন খারিজ করে নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকেছে মালয়েশিয়া।
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বনাম জাকির নায়েক ইস্যু: কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে ভারত এবং মালয়েশিয়ার সম্পর্ক অন্যান্য ক্ষেত্রে যথেষ্ট ঘনিষ্ঠ ও মধুর। সম্প্রতি নিজ দেশে খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভারতের পক্ষ থেকে রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিশেষ কোটায় মালয়েশিয়াকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টন চাল দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আইটিইসি (ITEC) কর্মসূচির আওতায় মালয়েশিয়ান নাগরিকদের জন্য ১০০টি বিশেষ প্রশিক্ষণ আসন বরাদ্দ করা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং মালয়েশিয়ান-ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মতো একাধিক ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে নয়াদিল্লি।
অথচ ভারতের এই পরিকাঠামো ও খাদ্য সুরক্ষামূলক বন্ধুত্বের প্রতিদান দিতে গিয়ে জাতীয় নিরাপত্তার সবচেয়ে সংবেদনশীল এই ইস্যুতে মালয়েশিয়ার চরম অসহযোগিতা ভারতবাসীর মনে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনীতি কখনোই একতরফা চলতে পারে না। যেখানে ভারত আঞ্চলিক বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, সেখানে জাতীয় স্বার্থ ও ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীকে প্রত্যর্পণের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে মালয়েশিয়ার এমন অনমনীয় ও রক্ষণশীল মনোভাব ভারতের কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট হতাশার সৃষ্টি করেছে।
মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ কিছু মহলে জাকির নায়েকের বিশেষ জনপ্রিয়তা থাকায় সে দেশের সরকার বারবার দাবি করে আসছে যে, তিনি স্থানীয় আইন মেনে চললে দেশটিতে থাকতে পারেন। সম্প্রতি ব্রিকস সম্মেলনের সাইডলাইনে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যেও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়েছিল বলে শোনা গেলেও কুয়ালালামপুরের অবস্থান একচুলও বদলায়নি। ভারতের কূটনৈতিক কৌশলে এই বড় ধাক্কা আগামী দিনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার!