এসআইআর বিরোধী জোটের মাঝেই বাম-মমতা ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিস্ফোরক পোস্ট! কোন বড় বার্তার ইঙ্গিত দিলেন ঋতব্রত?

দলমত নির্বিশেষে এসআইআর (SIR) বিরোধী আন্দোলনে বিজেপিকে কোণঠাসা করতে সমস্ত বিরোধী দলকে ব্যক্তিগত চিঠি পাঠিয়েছিলেন সিপিআই(এম)-এর পলিটব্যুরো সদস্য এমএ বেবি। সেই চিঠির সূত্র ধরেই সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদককে সরাসরি ফোন করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, “বিজেপি বিরোধিতায় কোনও ‘লাল, নীল’ দেখব না”— মমতার এমন মন্তব্যের পর জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছিল তীব্র তরজা। এর মধ্যেই রামলীলা ময়দানের একটি জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও এমএ বেবিকে পাশাপাশি বসে কানে কানে কথা বলতে দেখা যায়, যা মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে। আর এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই দার্শনিক জঁ-পল সার্ত্রের (Jean-Paul Sartre) একটি বিখ্যাত উদ্ধৃতি তুলে ধরে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ তথা বর্তমানে চর্চিত রাজনৈতিক মুখ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঋতব্রতের এক্স হ্যান্ডেলে কোন বিস্ফোরক বার্তা? সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (পূর্বতন টুইটার)-এ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও এমএ বেবির ফিসফিস করে কথা বলার সেই আলোচিত ছবিটি শেয়ার করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ছবির ক্যাপশনে ফরাসি দার্শনিক জঁ-পল সার্ত্রের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য জুড়ে দিয়েছেন তিনি।
সার্ত্রের সেই কোটটি হলো— “You can’t fix a mind that enjoys being wrong” (অর্থাৎ, যে মন নিজের ভুল জেনেও বা ভুল পথে হেঁটে আনন্দ পায়, তাকে কখনো ঠিক করা যায় না)। ঋতব্রতের এই পোস্ট ঘিরেই এখন রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র গুঞ্জন।
বাম-তৃণমূলের কাছাকাছি আসায় অস্বস্তি কি বাড়ছে? জাতীয় স্তরে বিজেপিকে হটাতে ধর্মনিরপেক্ষ ও বিরোধী শক্তিগুলিকে এক ছাতার তলায় আনার চেষ্টা চলছে ঠিকই, তবে বাংলার মাটিতে দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তি— সিপিআই(এম) ও তৃণমূল কংগ্রেসের এই ক্রমবর্ধমান সখ্যতা বা সমীকরণকে অনেকেই সহজভাবে নিতে পারছেন না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, একদিকে যখন বামেদের একাংশ এবং তৃণমূলের নীতিনির্ধারকরা একমঞ্চে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তখন এই ধরনের পোস্টের মাধ্যমে বাম শিবিরের ভেতরকার বা পুরোনো বামপন্থী মহলের একাংশের ক্ষোভ ও অস্বস্তিই যেন ফের একবার প্রকাশ্যে চলে এল।
রামলীলা ময়দানে দুই নেতার গোপন আলোচনা এবং তার রেশ ধরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দার্শনিক খোঁচা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো তাত্ত্বিক বিতর্কের জন্ম দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার!