গঙ্গার ঘাট থেকে মায়াপুরের ইসকন চত্বর—নজরকাড়া মেগা মেমোরান্ডামে নড়েচড়ে বসল নবান্ন! শহরের পরিকাঠামোয় আসছে বিরাট বিপ্লব

কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন শহরাঞ্চলের নাগরিক পরিষেবা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে এক যুগান্তকারী ও সুদূরপ্রসারী মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। কলেজ স্ট্রিটের ঐতিহ্যবাহী বইপাড়া, কলকাতার চায়না টাউন, শহরের প্রধান গঙ্গার ঘাটগুলি থেকে শুরু করে আধ্যাত্মিক তীর্থক্ষেত্র মায়াপুরের ইসকন মন্দির চত্বর—একাধিক ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সার্বিক রূপ বদলে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এদিন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এক উচ্চপর্যায়ে এই মেগা প্রকল্পগুলির কথা ঘোষণা করেন। প্রকল্পগুলি দ্রুত বাস্তবায়িত করতে ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সঙ্গে মউ (MoU) স্বাক্ষর করা হয়েছে।
ব্যাংকক মডেলের আধুনিক হকার জোন ও শৌচালয় নির্মাণ: রাজ্যের শহরাঞ্চলগুলিতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের নাগরিক ভোগান্তি দূর করতে এবার বড় পদক্ষেপ করা হচ্ছে। বিশেষ করে পথচলতি মানুষের সুবিধার্থে রাজ্যজুড়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই মহৎ উদ্দেশ্য পূরণে ‘সুডা’ (SUDA) এবং ‘কেএমডিএ’ (KMDA)-র মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলির সঙ্গে ইতিমধ্যেই মউ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
পাশাপাশি, হকারদের পুনর্বাসন ও শহরের জট সরাতে ব্যাংককের সফল মডেল অনুসরণ করে সুনির্দিষ্ট ও আধুনিক হকার জোন বা ফেরিওয়ালাদের ব্যবসার নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করা হবে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, হকারদের জন্য আধুনিক দোকানঘর, ফুড পার্ক, নির্দিষ্ট সময়ের বাজার এবং টেন্টের মাধ্যমে সুশৃঙ্খল ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ার ভাবনা রয়েছে প্রশাসনের।
দিল্লি-মহারাষ্ট্রের আদলে বস্তি উন্নয়ন ও পাকা আবাসনের স্বপ্ন: শহরের বস্তি এলাকাগুলির চেহারা বদলাতেও বিশেষ ও যুগান্তকারী পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। দিল্লি, মহারাষ্ট্র ও গুজরাতের সফল আবাসন মডেল অনুসরণ করে বস্তিবাসীদের জন্য স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ বসবাসের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার রূপরেখা অনুযায়ী:
যাঁদের নিজস্ব জমিটার আইনি অধিকার রয়েছে, রাজ্য সরকারের সহায়তায় তাঁদের সেই জমিতেই পাকা বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, যাঁদের নিজস্ব কোনো জমিও নেই, তাঁদের পুনর্বাসন দিয়ে পাকাপাকি আবাসনের ব্যবস্থা করার কথাও ভাবা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, এই বিশাল মাপের কাজের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পের আর্থিক ও প্রশাসনিক সাহায্য নেওয়া হবে। তবে গোটা প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুচারু ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় এলাকার প্রকৃত বাসিন্দাদের বর্তমান সমস্যা ও সুনির্দিষ্ট প্রয়োজন খতিয়ে দেখে ধাপে ধাপে এই মেগা প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। শহরের পরিকাঠামো ও জনজীবনের মান উন্নত করতে সরকারের এই সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।