ক্ষমতার অপব্যবহার করে উপার্জিত বেআইনি কোটি কোটি টাকা গেল কোথায়? ইন্দ্রনীল সেনকে হেফাজতে নিয়ে সত্য উন্মোচনে কলকাতা পুলিশ

রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মন্ত্রীর পদে থাকাকালীন ক্ষমতার চরম অপব্যবহার এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ ও সম্পত্তি উপার্জনের অভিযোগে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়লেন গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। শুধুমাত্র বেআইনি উপায়ে কোটি কোটি টাকা উপার্জনই নয়, সেই কালো টাকা আড়াল করতে বিভিন্ন ভুয়ো ও বেনামি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তদন্তকারীরা। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সূত্রে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

MPO আইনের ২ ও ৯ নম্বর ধারায় মামলা জোরদারের আবেদন: এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম ও সম্পত্তি অর্জনের তদন্তকে আরও পোক্ত করতে এবং অভিযুক্তের আইনি ফাঁস শক্ত করতে ‘পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গণপরিসর ও অপরাধ দমন আইন’ (MPO)-এর ২ এবং ৯ নম্বর নতুন ধারা যুক্ত করার আবেদন জানিয়ে ব্যাঙ্কশাল আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কলকাতা পুলিশ।

আদালতে পেশ করা পুলিশের আবেদনে বলা হয়েছে:

  • MPO আইনের ২ নম্বর ধারা: সংশোধিত এই ধারার অধীনে পদ বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্জিত বেআইনি অর্থ ও বিপুল সম্পত্তিকে সরাসরি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ রয়েছে।

  • MPO আইনের ৯ নম্বর ধারা: এই ধরণের জটিল ও বড় মাপের অর্থনৈতিক অপরাধের জন্য আইনে কড়া শাস্তির স্পষ্ট বিধান রয়েছে।

অপরাধের সার্বিক মাত্রা ও গুরুত্বের বিচারে মামলাটিতে এই দুটি কঠোর ধারা যুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি বলে বিচারককে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী।

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের খতিয়ান ও হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনা: পুলিশ সূত্রের দাবি, প্রাক্তন মন্ত্রীর একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব মেলাতে গিয়েই এই মেগা আর্থিক কারচুপির সন্ধান পেয়েছেন গোয়েন্দারা। সংগৃহীত বেআইনি টাকা কোথায়, কীভাবে পাচার করা হয়েছে, এই বিশাল কারবারের নেপথ্যে কোনো বড় আন্তর্জাতিক বা রাজ্যভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রতারণা চক্র যুক্ত রয়েছে কি না— তা খতিয়ে দেখতে ইন্দ্রনীল সেনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে মুখোমুখি জেরা করতে চায় পুলিশ।

বর্তমানে ব্যাঙ্কশাল আদালতে এই আবেদনের শুনানি চলছে। আদালত MPO আইনের এই কড়া ধারাগুলি যুক্ত করার অনুমতি দেয় কি না, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক ও আইনি মহলের। এই বিষয়ে কলকাতা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, “আদালত এই ধারাগুলি যুক্ত করার নির্দেশ দিলে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত গতিতে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।”

Aditi Banik
  • Aditi Banik