রাজ্য রাজনীতির নজর এখন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের দিকে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের পর থেকেই ফলতার ভোট নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে। যদিও ডায়মন্ড হারবার এবং মগরাহাট পশ্চিমের একাধিক বুথে আজ ইতিমধ্যেই পুনর্নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, কিন্তু ফলতা নিয়ে কমিশন এখনও কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা করেনি। তবে সূত্রের খবর, ফলতা নিয়ে অত্যন্ত কঠোর এবং নজিরবিহীন কোনও পদক্ষেপ নিতে চলেছে কমিশন।
কেন কমিশনের আতশকাঁচের তলায় ফলতা?
ফলতা বিধানসভার মোট ২৩৮টি বুথের মধ্যে বেশ কয়েকটিতে অস্বাভাবিক ভোটদানের হার লক্ষ্য করা গিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বেশ কিছু বুথে ১০০ শতাংশ ভোট পড়েছে। এখানেই শেষ নয়, প্রিসাইডিং অফিসারদের খাতা থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, দুপুর ১টার মধ্যেই ৫৮ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে গিয়েছিল। এছাড়া আরও কিছু গুরুতর কারচুপির অভিযোগ সামনে এসেছে:
একাধিক বুথের ইভিএম মেশিনে রহস্যজনকভাবে টেপ লাগানো ছিল।
উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বহু বুথের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নেটওয়ার্ক সমস্যার দোহাই দিয়ে কন্ট্রোল রুমে দীর্ঘক্ষণ কোনো ওয়েবকাস্টিং তথ্য পাঠানো হয়নি।
বর্তমানে প্রায় ৩০টি বুথকে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন।
কমিশনের হাতে কী বিকল্প পথ খোলা রয়েছে?
কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, ফলতা নিয়ে আইনি দিকগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাধারণত গণনার আগে পুনর্নির্বাচন হয়, কিন্তু ফলতার ক্ষেত্রে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে গণনার পরেও ভোট করানোর সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। কমিশনের কর্তারা এখন প্রিসাইডিং অফিসারদের ডায়েরি এবং বুথের রিপোর্ট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা হতে পারে যেকোনো মুহূর্তে।
অন্যান্য বুথে চলছে পুনর্নির্বাচন:
ফলতা নিয়ে টানাপড়েন চললেও আজ সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তায় ভোট চলছে ডায়মন্ড হারবারের ৪টি বুথে (বুথ নং ১১৭, ১৭৯, ১৯৪, ২৪৩) এবং মগরাহাট পশ্চিমের ১১টি বুথে (বুথ নং ৪৬, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৪২, ২১৪, ২১৫, ২১৬, ২৩০, ২৩১, ২৩২)। আধাসামরিক বাহিনীর কড়া পাহারায় ভোটদাতারা লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তবে ফলতার ভাগ্য কী হতে চলেছে, তা নিয়ে এখন সরগরম রাজ্য প্রশাসন।





