প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’! গোডাউনের মালিক গ্রেফতার, মণিপুরে লোক্তাক হ্রদ বাঁচাতে সরকারের কড়া পদক্ষেপ

মণিপুরে প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রমাণ মিলল সাম্প্রতিক এক অভিযানে। ইম্ফল পূর্ব জেলার নীলাকুঠি এলাকায় একটি গোডাউনে মণিপুর দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (MPCB) এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে ৩০,০০০ কেজিরও বেশি নিষিদ্ধ একক-ব্যবহার প্লাস্টিক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জব্দ করা এই প্লাস্টিকের বাজার মূল্য ৫০ লক্ষ টাকার বেশি বলে অনুমান করা হচ্ছে।

গোপন সূত্রে অভিযান, আটক গোডাউনের মালিক
ইম্ফল পূর্ব জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার ভোরে এমপিসিবি এবং পুলিশ নীলাকুঠির একটি গোডাউনে অভিযান চালায়। এই অভিযানে প্লাস্টিক ব্যাগ, কাপ, প্লেট এবং স্ট্র-এর মতো বিপুল পরিমাণ একক-ব্যবহার প্লাস্টিক বাজেয়াপ্ত করা হয়।

এই উপকরণগুলি ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়মের অধীনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এই ঘটনায় গোডাউনের মালিককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে পরিবেশ সুরক্ষা আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মণিপুর দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “একক-ব্যবহার প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আমরা এই ধরনের অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি।” তিনি আরও বলেন, জব্দ করা প্লাস্টিকগুলি পুনর্ব্যবহারযোগ্য কেন্দ্রে পাঠানো হবে এবং পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করা হবে।

পরিবেশকর্মীদের উদ্বেগ ও বিকল্পের দাবি
পুলিশ অফিসারদের মতে, গোডাউনটি দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ প্লাস্টিক সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। উল্লেখ্য, মণিপুর সরকার ২০১৯ সাল থেকে একক-ব্যবহার প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে।

স্থানীয় পরিবেশবাদীরা এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই ধরনের অবৈধ প্লাস্টিক ব্যবসার কারণে ইম্ফলের লোক্তাক হ্রদ এবং অন্যান্য জলাশয়ে জলজ প্রাণী ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

তবে পরিবেশকর্মী থাংজাম বিরেন বলেন, “এই ধরনের অভিযান মণিপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। তবে, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং বিকল্প উপকরণের ব্যবহার প্রচার করা প্রয়োজন।” স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, জৈব-বিকল্প প্লাস্টিকের দাম বেশি হওয়ায় অনেকে সস্তা একক-ব্যবহার প্লাস্টিকের দিকে ঝুঁকছেন। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার বিকল্প উপকরণের উপর ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।