প্রেমিকের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে লিভ-ইন! জঙ্গল থেকে উদ্ধার নাবালিকার টুকরো করা দেহ

জঙ্গলের মধ্যে থেকে এক ১৭ বছরের নাবালিকার মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে। বালিয়াপুর থানা এলাকার স্থানীয় ধাংগিং বস্তি লাগোয়া জঙ্গল থেকে মেয়েটির দেহ এবং মারাইথান এলাকার ছাতনিয়া ব্রিজ থেকে তাঁর কাটা মুণ্ডু উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি প্লাস্টিকের ব্যাগের মধ্যে ধর থেকে আলাদা করা মাথাটি পাওয়া যায় এবং পেটের অংশটি জঙ্গলের অন্য একটি অংশে পড়ে ছিল। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। খবর পেয়ে অবিলম্বে পুলিশ, ফরেনসিক টিম এবং ডগ স্কোয়াড ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। তল্লাশি চালানোর সময় ক্রাইম সিন থেকে বেশ কিছু ধূপকাঠি ও পুজোর অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নরবলি দেওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কিশোরীর বাড়ি গিরিধের বেনগাবাদ অঞ্চলে হলেও সে ধানবাদের মাহিয়াদহতে আত্মীয়দের বাড়িতে থাকত। শহরের এসপি ঋত্তিক শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, গত সন্ধ্যাতেই মেয়েটির নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তাঁর বাবা। এক যুবকের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাঁরা ধানবাদের কর্মাতণ্ড এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে লিভ-ইন করতেন। পরিবারের দাবি, জাতপাতের কারণে এই সম্পর্ক মেনে নেওয়া না হওয়ায় পঞ্চায়েতও বসেছিল। মীমাংসার জন্য তাঁদের থানায় ডাকার কথা থাকলেও তার আগেই এই ভয়াবহ পরিণতি ঘটে। মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই যুবক, তাঁর বাবা এবং পিসিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

তবে ক্রাইম সিন থেকে উদ্ধার হওয়া পুজোর সামগ্রী নরবলির কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলেনি। ময়নাতদন্ত এবং ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ ও নেপথ্যের রহস্য স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা।