প্রেমিকের কথায় গর্ভপাত, তারপরই রহস্যজনক মৃত্যু! আরজি করের ছাত্রীর ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চাঞ্চল্য

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ফাইনাল ইয়ারের এক ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই ছাত্রীর ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ সেবনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও নিহত ছাত্রীর পরিবার এখনও এটিকে পরিকল্পিত খুন বলেই দাবি করছে।
প্রেমিকের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ
গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে মালদা মেডিক্যাল থেকে কলকাতা নিয়ে আসার পথে মারা যান ওই ছাত্রী। এরপরই তার মা ইংরেজবাজার থানায় মেয়ের প্রেমিক, মালদা মেডিক্যালের এমবিবিএস কোর্সের এক ছাত্রের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। পরিবারের অভিযোগ, ওই ছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর জানতে পেরেই তার প্রেমিক তাকে ভবানীপুরের একটি নার্সিংহোমে নিয়ে গিয়ে গর্ভপাত করিয়েছিল। এরপর থেকেই দু’জনের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর ওই ছাত্রীর প্রেমিক ফোন করে জানায়, সে মালদা মেডিক্যালে ভর্তি। সেই খবর পেয়েই তার মা সেখানে ছুটে যান। সেদিন রাতেই মেয়েকে নিয়ে কলকাতা ফেরার পথে তার মৃত্যু হয়। মা নিশ্চিত, তার মেয়েকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে।
পুলিশি তদন্তে নতুন তথ্য
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ওই ছাত্রীর প্রেমিককে গ্রেফতার করে। ধৃত ছাত্র দাবি করেন, তিনি ওই ছাত্রীকে খুন করেননি, বরং সে নিজেই অতিরিক্ত প্যারাসিটামল সেবন করায় তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, এর আগেও ওই ছাত্রী একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। ১০ সেপ্টেম্বর সে অতিরিক্ত প্যারাসিটামল খেয়ে ফেলায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
ইংরেজবাজার থানার পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ছাত্রের বক্তব্যে অনেকটাই সত্যতা মিলেছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেও মাত্রাতিরিক্ত প্যারাসিটামল সেবনের ফলে ‘মাল্টি অর্গান ফেলিওর’ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে পুলিশ মৃতদেহের নমুনা আরও কিছু পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে।
এদিকে, নিহত ছাত্রীর মা জানিয়েছেন, “আমরা এখনো ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাইনি। আমার মেয়ে নিজেকে শেষ করতে পারে না। ওকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। আমরা পুলিশি তদন্ত রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে আছি এবং সেই রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ করব।” এই ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলছে।