প্রেমিকা ফেরাতে ‘বশীকরণ’ই হল মরণফাঁদ! তান্ত্রিকের হাতে খুন কানপুরের ‘মনভাঙা’ যুবক, ধৃত অভিযুক্ত

‘প্রেম যে কাঁঠালের আঠা, লাগলে পরে ছাড়ে না…’—উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক মনভাঙা প্রেমিকের পরিণতিতে এই লাইনটিই সত্যি হল। গত এপ্রিল মাসে প্রেমিকার অন্য জায়গায় বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর তাঁকে ফিরিয়ে আনতে ‘বশীকরণের’ জন্য তান্ত্রিকের কাছে গিয়েছিলেন ২৬ বছর বয়সী রাজাবাবু। কিন্তু তিনি জানতেন না, সেই তান্ত্রিকের কাছে যাওয়াই তাঁর জন্য মরণফাঁদ হবে।

প্রেমে ব্যর্থ যুবকের করুণ পরিণতি

কানপুরের আরশাদপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজাবাবুর প্রেমিকার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। প্রাক্তনকে ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি শিবলী এলাকার একটি মাজারের কাছে নীলু নামের এক তান্ত্রিকের সঙ্গে দেখা করেন। রাজাবাবু কাতর আর্জি জানান যে, বিনিময়ে যত টাকা লাগবে, তাই দেওয়া হবে।

এরপর গত ২৫ নভেম্বর এলাকা থেকে ২৬ বছরের রাজাবাবুর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। দেহের পাশে প্রাক্তন প্রেমিকার ছবি, একটি ধারালো অস্ত্র এবং মদের বোতল পাওয়া যায়।

টাকার দাবিতে খুন

পুলিশ সুপার শ্রদ্ধা নরেন্দ্র পান্ডে জানান, সিসিটিভি ফুটেজে তান্ত্রিক নীলুকে রাজাবাবুর সঙ্গে দেখা যাওয়ার পর তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জেরায় নীলু স্বীকার করে যে, সে-ই রাজাবাবুকে খুন করেছে।

  • যুবকটি প্রেমিকাকে ফিরে পেতে পাগল হয়ে গিয়েছিল। প্রথমে নীলুকে ৩৬,০০০ টাকা দেওয়ার পর সে আরও দেড় লক্ষ টাকা দিয়েছিল।

  • ২৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় ভুয়ো তান্ত্রিক নীলু রাজাবাবুকে কিছু রীতিনীতি পালনের কথা বলে ডেকে পাঠায়।

  • তারা একটি দোকান থেকে মদ কেনে এবং কাছেরই একটি মাঠে যায়।

  • সেখানে আরও টাকা দাবি করতেই দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়।

  • ঝগড়ার সময়, অভিযুক্ত নীলু রাজাবাবুর বুকে একাধিকবার ছুরির কোপ মারে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই ওই যুবক মারা যান।

পুলিশ আরও জানায়, নীলু এরপর পুরো ঘটনাটি আত্মহত্যার ঘটনা সাজানোর চেষ্টা করে। সে রাজাবাবুর হাতে খুনের অস্ত্রটি রেখে দেয় এবং পাশে প্রাক্তন প্রেমিকার ছবিও রেখে দেয়। অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy