প্রাক্তন বিচারপতির পরিবারকে খুনের হুমকি! সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে বাড়ছে নিরাপত্তা!

এসআইআর (SIR) আপিল ট্রাইব্যুনালে কর্মরত এক বিচারপতির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির কাছে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। মামলার তালিকা থেকে নাম যাতে বাদ না দেওয়া হয়, সেই দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীকে লাগাতার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ জানিয়ে তাঁর পুত্র সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখার পর কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করেছে প্রাক্তন বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নিরাপত্তা জোরদার করতে। আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী তথা তাঁর পুত্র অনন্য কান্তি রায় সরস্বতী শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করে জানান যে, সরকারি দায়িত্ব পালন করার কারণেই আজ তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে চরম হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। এসআইআর আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিলের সঠিক নিষ্পত্তি ও বিচারাধীন বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলার উদ্দেশ্যেই এই কুচক্রী মহল এহেন অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ।

আবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়েছে যে, গত ২২ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে যাতায়াতের পথে বিচারপতি অনিন্দিতা একটি রহস্যজনক সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন, যা পরে পরিকল্পিত হামলা বলেই সন্দেহ করা হয়। এরপর ৩০ এপ্রিল রাজারহাটের বাসভবনে স্পিড পোস্টের মাধ্যমে একটি হাতে লেখা হুমকি চিঠি পৌঁছয়। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে কলকাতার বাসভবনেও প্রায় হুবহু আরেকটি হুমকি চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, এসআইআর আপিল ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালনকালে ভোটার তালিকায় নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নাম অন্তর্ভুক্ত না করা হলে বিচারপতি অনিন্দিতা ও তাঁর গোটা পরিবারকে জীবন হারাতে হবে।

স্থানীয় থানায় বারবার অভিযোগ জানানো এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কাছে সুরক্ষার আর্জি রাখা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। সেই কারণেই পরিবারের পক্ষ থেকে সশস্ত্র পুলিশি সুরক্ষা এবং একটি নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে এই সংবেদনশীল বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে।