সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহতার মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে নয়ডা। এই ঘটনায় যোগী সরকার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিয়ে নয়ডা কর্তৃপক্ষের সিইও (CEO) এম. লোকেশ কুমারকে পদ থেকে সরিয়ে ‘অপেক্ষমাণ’ তালিকায় ফেলে দিয়েছে। ঘটনার তদন্তে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT। কিন্তু এরই মাঝে প্রকাশ্যে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য যা সরাসরি আঙুল তুলছে প্রশাসনের চরম গাফিলতির দিকে।
জানা গেছে, ২০২৩ সালেই উত্তরপ্রদেশ সেচ দপ্তর নয়ডা কর্তৃপক্ষকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি লিখেছিল। সেই চিঠিতে সেক্টর ১৫০ এলাকায় বৃষ্টির জল নিষ্কাশনের জন্য একটি ‘হেড রেগুলেটর’ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল। চিঠিতে বাজেটের উল্লেখ থাকলেও নয়ডা কর্তৃপক্ষ সেই প্রকল্পে হাত দেয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, যদি সেই রেগুলেটর তৈরি হতো, তবে যেখানে যুবরাজের গাড়ি পড়ে গিয়েছিল, সেখানে ওরকম কৃত্রিম হ্রদ বা জলাশয় তৈরি হতো না।
উল্লেখ্য, গত শনিবার ভোরে ঘন কুয়াশার মধ্যে যুবরাজের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেক্টর ১৫০-এর একটি নির্মীয়মাণ কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সের বেসমেন্টের জন্য খোঁড়া ৫০ ফুট গভীর গর্তে পড়ে যায়। জলমগ্ন সেই গর্তটি কার্যত একটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছিল। পুলিশ ইতিপূর্বেই মেসার্স উইশটাউন প্ল্যানার্স এবং লোটাস গ্রিনস নামক দুটি বিল্ডার সংস্থার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। যুবরাজের বাবার অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও ওই এলাকায় কোনও ব্যারিকেড বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এখন প্রশ্ন উঠছে, সেচ দপ্তরের সতর্কবার্তাকে কেন গুরুত্ব দেয়নি নয়ডা প্রশাসন? যুবরাজের মৃত্যুর দায় শেষ পর্যন্ত কার কাঁধে চাপবে, তা নিয়েই এখন সরগরম উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি।





