দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডি. ওয়াই. চন্দ্রচূড় নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পরও সরকারি বাসভবন খালি না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এই নজিরবিহীন ঘটনায় কেন্দ্রের আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রককে চিঠি পাঠিয়ে দ্রুত বাংলোটি খালি করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নিয়ম লঙ্ঘন ও বিশেষ পরিস্থিতি:
দিল্লির ৫ নম্বর কৃষ্ণ মেনন মার্গের ‘টাইপ এইট’ শ্রেণির এই সরকারি বাংলোটি দেশের প্রধান বিচারপতিদের জন্য নির্ধারিত। ২০২৪ সালের নভেম্বরে অবসর গ্রহণ করার পর থেকেই বিচারপতি চন্দ্রচূড় এই বাংলোতে রয়েছেন। অথচ সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিচারপতি অবসরের পর সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র ‘টাইপ সেভেন’ বাংলোতে থাকার অনুমতি পান।
এই পরিস্থিতিতে বিচারপতি চন্দ্রচূড় জানিয়েছেন, তাঁর দুই কন্যা গুরুতর অসুস্থ এবং তাদের দিল্লি এইমসে চিকিৎসার জন্যই তিনি এই বাংলোতে থাকছেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টকে তার এই বিশেষ পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন এবং আশ্বস্ত করেছেন যে, সরকার নির্ধারিত নতুন বাংলোটি (১৪ নম্বর তুঘলক রোড) বসবাসযোগ্য হলেই তিনি তা খালি করবেন। তবে, নতুন ওই বাংলোর সংস্কারের কাজ এখনও শেষ হয়নি বলে জানা গেছে।
নজিরবিহীন পদক্ষেপ ও মন্ত্রকের অবস্থান:
আবাসন মন্ত্রক এর আগেই জানিয়েছিল যে, বিচারপতি চন্দ্রচূড় চাইলে মাসিক লাইসেন্স ফি দিয়ে বর্তমান বাংলোতে থাকতে পারেন। তা সত্ত্বেও সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে চিঠি পাঠানো এবং প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিকে বাসভবন খালি করার অনুরোধ, অনেকেই নজিরবিহীন বলে মনে করছেন।
এই ঘটনা দেশের বিচারব্যবস্থা এবং সরকারি আবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই জটিল পরিস্থিতি কবে এবং কীভাবে নিষ্পত্তি হয়।