দেশের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া অসংগঠিত খাতের শ্রমিকদের বার্ধক্যে আর্থিক সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকার ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু করেছিল ‘প্রধানমন্ত্রী শ্রম যোগী মান-ধন যোজনা’ (PM-SYM)। এই প্রকল্পের আওতায় ষাট বছর বয়স পেরোনোর পর যোগ্য শ্রমিকরা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে পেনশন পাবেন।
কারা এই প্রকল্পের যোগ্য?
এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য বেশ কিছু যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে:
বয়স: আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
আয়সীমা: মাসিক আয় ১৫,০০০ টাকার বেশি হতে পারবে না।
পেশা: ফেরিওয়ালা, ড্রাইভার, নির্মাণ শ্রমিক, বিড়ি শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, গৃহকর্মী এবং অন্যান্য অসংগঠিত খাতের শ্রমিকরা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য।
অযোগ্যতা: সরকারি চাকরিজীবী, কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠন (EPFO) বা কর্মচারী রাজ্য বিমা নিগম (ESIC)-এর সুবিধাভোগীরা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য নন।
কেন্দ্রীয় সরকারের সমপরিমাণ বিনিয়োগ:
প্রধানমন্ত্রী শ্রম যোগী মান-ধন যোজনার একটি অন্যতম আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো, সুবিধাভোগী যত টাকা মাসিক কিস্তি হিসেবে প্রদান করবেন, কেন্দ্রীয় সরকারও ঠিক একই পরিমাণ অর্থ শ্রমিকের পেনশন অ্যাকাউন্টে জমা করবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন শ্রমিক মাসিক ১০০ টাকা প্রদান করেন, তবে কেন্দ্রীয় সরকারও তার অ্যাকাউন্টে ১০০ টাকা জমা করবে, ফলে প্রতি মাসে শ্রমিকের পেনশন অ্যাকাউন্টে মোট ২০০ টাকা জমা হবে। এই অর্থ সুবিধাভোগীকে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়মিত প্রদান করতে হবে। মাসিক প্রদেয় অর্থের পরিমাণ ব্যক্তির যোগদানের বয়সের উপর নির্ভর করে।
বয়স অনুযায়ী প্রদেয় মাসিক কিস্তি:
প্রকল্পে যোগদানের বয়স অনুসারে শ্রমিকের প্রদেয় মাসিক অর্থের পরিমাণ পরিবর্তিত হয়। যেমন:
১৮ বছর বয়সে যোগদান করলে মাসিক ৫৫ টাকা প্রদান করতে হবে।
২৯ বছর বয়সে যোগদান করলে মাসিক ১০০ টাকা প্রদান করতে হবে।
৪০ বছর বয়সে যোগদান করলে মাসিক ২০০ টাকা করে জমা করতে হবে।
কীভাবে নিবন্ধন করবেন?
এই প্রকল্পটি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক তত্ত্বাবধান করে থাকে। কেন্দ্রীয় সরকার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন (LIC) এবং কমন সার্ভিস সেন্টার (CSC)-এর সহযোগিতায় এটি পরিচালনা করছে। এই প্রকল্পে যোগদানের জন্য আবেদনকারীর আধার কার্ড এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ প্রয়োজন। সম্পূর্ণ তথ্য এবং নিবন্ধনের জন্য, আগ্রহী ব্যক্তিরা তাদের নিকটবর্তী CSC কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিস্তারিত জানতে পারেন।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে অসংগঠিত খাতের লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বার্ধক্যে একটি নিশ্চিত আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাদের জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আর্থিক সুরক্ষায় অনেকটাই সাহায্য করবে।





