হোটেলে কাটানো ব্যক্তিগত মুহূর্ত রেকর্ড হচ্ছে না তো? দামি গ্যাজেট ছাড়াই স্মার্টফোনে এক নিমেষে ধরুন হিডেন ক্যামেরা!

অফিস ট্যুর হোক বা ফ্যামিলি ট্রিপ, নতুন কোনো জায়গায় গিয়ে হোটেলে ওঠার অভিজ্ঞতা কমবেশি সকলেরই রয়েছে। তবে ছুটির আনন্দে মেতে ওঠার আগে হোটেলের ঘর নিয়ে বর্তমানে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ, হোটেলে গোপন ক্যামেরা বা হিডেন ক্যামেরা বসিয়ে ব্যক্তিগত মুহূর্ত রেকর্ড করার খবর আজকাল প্রায়ই খবরের শিরোনামে উঠে আসে। আপনার অজান্তেই ঘরের গোপন কোণ থেকে কেউ আপনার একান্ত মুহূর্তের ভিডিও রেকর্ড করছে না তো? এই মারাত্মক আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে বাজারে গিয়ে কোনো দামি বা ভারী গ্যাজেট কেনার প্রয়োজন নেই। আপনার হাতের সাধারণ স্মার্টফোনটি দিয়েই এই মারাত্মক বিপদ এড়ানো সম্ভব। নতুন কোনো হোটেলে ঢুকেই এই বিশেষ কাজগুলি করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রথমত, ঘরের আলো নিভিয়ে ফোনের ক্যামেরা টেস্ট করতে হবে। ঘরের সব আলো সম্পূর্ণ নিভিয়ে এবং জানালার পর্দা টেনে ঘরটি একদম অন্ধকার করে দিন। এরপর আপনার ফোনের ক্যামেরা অন করুন, তবে খেয়াল রাখবেন ব্যাক ক্যামেরার বদলে ফ্রন্ট ক্যামেরা ব্যবহার করা ভালো, কারণ ব্যাক ক্যামেরায় আইআর বা ইনফ্রারেড ফিল্টার থাকে। এবার ঘরের চারপাশ ধীরেসুস্থে ক্যামেরা ঘুরিয়ে লক্ষ্য করুন। কোথাও যদি ছোট লাল বা বেগুনি রঙের আলোর বিন্দু জ্বলতে ও নিভতে দেখেন, তবে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক হয়ে যান। ওটি নাইট ভিশনযুক্ত কোনো গোপন ক্যামেরার আইআর লাইট হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, অপরাধীরা সাধারণত ঘর পর্যবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট কিছু লুকানোর জায়গা বেছে নেয়। যেমন বেডরুমের সামনে টিভি, এসি, দেওয়াল ঘড়ি, ফটো ফ্রেম, শো-পিস এবং স্মোক ডিটেক্টর। এছাড়া বাথরুমে শাওয়ার হেড, শ্যাম্পুর বোতল, আয়নার পিছন বা চারপাশ, এয়ার ফ্রেশনার, দেওয়ালের স্ক্রু, পাওয়ার সকেট এবং ফোন চার্জারের ভিতর এই ধরনের ক্যামেরা সবচেয়ে বেশি লুকিয়ে রাখা হয়। তাই এই ৭টি জায়গা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করা দরকার।
তৃতীয়ত, হোটেলের রুমের আয়না আসল না নকল, তা যাচাই করা খুব জরুরি। বাথরুমের আয়নায় নিজের আঙুল ঠেকিয়ে দেখুন। আপনার আঙুল ও আয়নার প্রতিবিম্বের মধ্যে যদি কোনো ফাঁক না থাকে এবং আঙুল একদম নিখুঁতভাবে মিশে যায়, তবে সেটি টু-ওয়ে মিরর বা নকল আয়না হতে পারে। সাধারণত আসল আয়নার প্রতিবিম্বের মাঝে সামান্য ফাঁক থাকে।
চতুর্থত, ফ্ল্যাশলাইট টেকনিক ব্যবহার করতে পারেন। ঘরের সাধারণ আলো জ্বেলে মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট অন করুন। এবার সন্দেহজনক জায়গা যেমন ছোট ছিদ্র, স্ক্রু বা কালো কাঁচের মতো বস্তুতে সেই আলো ফেলুন। যদি সেখানে কোনো ক্যামেরার লেন্স থাকে, তবে আলোর প্রতিফলনে তা চকচক করে উঠবে।
পঞ্চমত, ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক স্ক্যান করা অত্যন্ত কার্যকর। অনেক সময় গোপন ক্যামেরা হোটেলের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের সঙ্গেই যুক্ত থাকে। এর জন্য ‘Fing’ বা ‘Hidden Camera Detector’ এর মতো কোনো ফ্রি মোবাইল অ্যাপ ইনস্টল করে নিতে পারেন। হোটেলের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে কানেক্ট করে স্ক্যান করলেই দেখতে পাবেন বর্তমানে কতগুলি ডিভাইস সংযুক্ত রয়েছে। কোনো অচেনা ক্যামেরা বা আইপি ক্যামেরার নাম দেখা গেলে অবিলম্বে সন্দেহ করুন।
ষষ্ঠত, ফোন কল করে পরীক্ষা করার একটি পুরনো কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী উপায় রয়েছে। ঘরের ভেতর থেকে অন্য কাউকে ফোন করুন এবং ফোনটি হাতে নিয়ে সন্দেহজনক জায়গাগুলোর কাছাকাছি যান। ক্যামেরার শক্তিশালী ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডের কারণে ফোনে যদি হঠাৎ ঘড়ঘড় শব্দ বা অস্বাভাবিক নয়েজ হতে শুরু করে, তবে বুঝবেন সেখানে কোনো গোপন ইলেকট্রনিক ডিভাইস সক্রিয় রয়েছে।
যদি সত্যিই কোনো গোপন ক্যামেরা বা সন্দেহজনক কিছু খুঁজে পান, তবে নিজে থেকে সেটি ভাঙচুর করতে যাবেন না। সঙ্গে সঙ্গে পুরো ঘটনার ছবি বা ভিডিও তুলে প্রমাণ হিসেবে নিজের কাছে রাখুন। এরপর তৎক্ষণাৎ হোটেল ম্যানেজমেন্টকে বিষয়টি জানান এবং পুলিশে অভিযোগ দায়ের করুন। পাশাপাশি যে অ্যাপের মাধ্যমে হোটেল বুক করেছেন, সেখানেও বিষয়টি রিপোর্ট করুন। একটু সচেতনতাই আপনাকে বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।