বেড শেয়ারিং নিয়ে তুমুল হুলুস্থুল! বিগ বস বাংলা সিজন ৩-এর অন্দরে রাজবীরের এন্ট্রি নিতেই ধুন্ধুমার কাণ্ড

গত এক সপ্তাহে ‘বিগ বস বাংলা সিজন ৩’ যতটা ঠান্ডা মেজাজে এগোচ্ছিল, মাত্র দুদিনের ব্যবধানে তা একেবারে রূপ বদলে নিয়েছে। এই আকস্মিক পরিবর্তনের পুরো কৃতিত্বই দিতে হবে নতুন ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি রাজবীর দে-কে। আসলে শুরুর সপ্তাহে বহু প্রতিযোগীকেই বেশ রক্ষণাত্মক ও খোলসের মধ্যে থাকতে দেখা গিয়েছিল। তবে এখন সেই খোলস ছেড়ে সবাই বেরিয়ে আসছেন। তা সায়ক হোক, ঝিলম হোক কিংবা নিরঞ্জন—সবারই গলার চড়া স্বর এখন স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছেন দর্শকরা। ‘বিগ বস বাংলা’-র নবম দিনে এসে খেলা একেবারে চরমে উঠেছে, যার সূত্রপাত হয়েছিল একটি রাতের বেড শেয়ারিং বা বিছানা ভাগ করে নেওয়াকে কেন্দ্র করে।
বর্তমান ঘরের অন্দরে জয়িতাকে একা করে দেওয়ার একটি চেষ্টা চলছে বলে একাংশ মনে করছেন। ঠিক সেই সময়ই জয়িতার পাশে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায় রাজবীরকে। তবে জয়িতার প্রতি এই অতিরিক্ত কেয়ারিং মনোভাব কি নেহাতই জেনুইন, নাকি পুরোটাই কোনো সুচিন্তিত গেম স্ট্র্যাটেজি, তা কেবল সময়ই উত্তর দেবে। তবে বাড়িতে পা রেখেই রাজবীর যেন পুরো ঘরের বিরুদ্ধে একা একাই লড়ছেন। মঙ্গলবার রাতের এপিসোডে স্পষ্ট দেখা যায়, জয়িতা চট্টোপাধ্যায়ের পাশে বিছানা শেয়ার করতে সম্পূর্ণ নারাজ নন্দিনী দত্ত। আর সেখান থেকেই মূলত সমস্ত সমস্যার সূত্রপাত ঘটে।
এরপর বিছানা ভাগাভাগি নিয়ে সামান্য রসিকতা থেকে কথা গড়ায় বেশ গুরুতর উত্তেজনায়। মনামী যখন নিজের সিঙ্গল বেডটি রাজবীরকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন, মুহূর্তের মধ্যে সেই সুযোগ লুফে নেন রাজবীর। আর ঠিক তারপরেই শুরু হয় আসল রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। মনামীর বিছানা ছেড়ে দেওয়ার এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সায়ক চক্রবর্তী ও নিরঞ্জন মণ্ডলকে একে অপরের বিরুদ্ধে গলার স্বর চড়াতে দেখা যায়। এই বাকবিতণ্ডার তালিকায় দ্রুত নাম লেখান ঝিলম ও তনুশ্রীও। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন রাজবীর বাড়ির অন্যান্য মেয়েদের কাছে প্রকাশ্যেই ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রণে ভঙ্গ দিয়ে আসরে নামতে বাধ্য হন অভিজ্ঞ প্রতিযোগী ভরত কল। এরপর রাজবীর যখন বাকি প্রতিযোগীদের সাফ জানিয়ে দেন যে জয়িতাকে দল পাকিয়ে টার্গেট করা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, তখন অনেকেই বিষয়টিকে হেসে উড়িয়ে দেন।
রাতের সেই দফায় দফায় ঝামেলার রেশ কাটতে না কাটতেই পরবর্তী ক্যাপ্টেন বেছে নেওয়ার জন্য ঘোষণা করা হয় নতুন টাস্ক। আর এই টাস্ক যে অত্যন্ত কঠিন ও কণ্টকাকীর্ণ হতে চলেছে, তা প্রথম থেকেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। বুধবারের এপিসোড সম্পূর্ণভাবেই এই কঠিন টাস্কের অন্দরের লড়াইকে কেন্দ্র করে এগোবে। অন্দরের এই ক্ষমতার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ক্যাপ্টেন পদের জন্য কে এগিয়ে থাকেন, তা জানতে হলে চোখ রাখতে হবে ‘বিগ বস বাংলা সিজন ৩’-এর টানটান প্রতিটি পর্বে।