ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এক আমূল পরিবর্তনের সূচনা হতে চলেছে। দীর্ঘদিনের পরিচিত প্যান্ট্রি কারের ধারণা বদলে এবার ট্রেনের খাবারে আধুনিকতার ছোঁয়া দিতে চলেছে ভারতীয় রেল। যাত্রীদের রেল সফরকে আরও আরামদায়ক ও গুণমানসম্মত করে তুলতে রেল কর্তৃপক্ষ প্রথাগত প্যান্ট্রি কারের পরিবর্তে অত্যাধুনিক ‘LHB EOG হট বুফে কোচ’ (Hot Buffet Coach) চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই নতুন কোচগুলি মূলত খাবার তৈরি, গরম রাখা এবং দ্রুত পরিবেশনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। প্রথম ধাপে দেশের জনপ্রিয় বন্দে ভারত এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন প্রিমিয়াম ও দ্রুতগতির ট্রেনে এই পরিষেবা শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ভারতীয় রেলের তরফে ১৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে চলা এই হট বুফে কোচগুলোর অনুমোদন ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। ফিয়াট বগির ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই কোচগুলি আগামী দিনের উচ্চগতির রেল পরিষেবার কথা মাথায় রেখেই ডিজাইন করা হয়েছে। এই কোচগুলোর বিশেষত্ব হলো, এর ১৬০ কিলো নিউটন অ্যাক্সেল লোড, যা ট্রেনকে উচ্চগতিতে চলার সময়ও স্থিতিশীল রাখবে। মূলত দূরপাল্লার যাত্রীদের সবসময় টাটকা এবং গরম খাবার পৌঁছে দেওয়াই এই নতুন উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
এই উচ্চগতির পরিষেবা সফল করার জন্য শুধুমাত্র কোচ পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে রেলের সামগ্রিক পরিকাঠামোরও ব্যাপক পরিবর্তনের প্রয়োজন। রেল সূত্রের খবর, ট্র্যাকের জ্যামিতি ও কাঠামোগত মান উন্নয়নের পাশাপাশি সিগন্যালিং ও ইন্টারলকিং ব্যবস্থায় আনা হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত ট্র্যাক পরিদর্শনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে এবং কোচগুলোতে মেটালিক সেফটি স্লিং ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কিছু রুটে দ্রুতগতির ট্রেন চালানোর জন্য রেল প্রায় ৪৪৮ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে, যা এই আধুনিকীকরণেরই অংশ।
যাত্রীদের জন্য এই নতুন হট বুফে কোচের সুবিধাগুলো হবে অভূতপূর্ব। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এর ফলে মেনুতে বৈচিত্র্য আসবে এবং যাত্রীরা রেস্তোরাঁর মতো গরম ও স্বাস্থ্যকর খাবার নিজের আসনেই পাবেন। পরিষেবার গতি বাড়বে এবং প্রিমিয়াম ট্রেনের সামগ্রিক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বহুলাংশে উন্নত হবে। যদিও নির্দিষ্ট কোন কোন রুটে এই পরিষেবা প্রথম চালু হবে, তা নিয়ে রেল এখনও চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা করেনি। তবে রেলের এই আধুনিকীকরণের বৃহত্তর পরিকল্পনা যে দেশের সাধারণ যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য রুটেও ধাপে ধাপে এই অত্যাধুনিক পরিষেবা সম্প্রসারণের আশা করা হচ্ছে, যা ভারতীয় রেলের পরিষেবাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।





