পোস্তায় ডিম থেরাপি ও মারধর! নিরাপত্তার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাজার বন্ধের ডাক

কলকাতার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার পোস্তায় এক নজিরবিহীন ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পোস্তা বাজার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি বিশ্বনাথ আগরওয়ালকে প্রকাশ্য দিবালোকে ডিম ছুড়ে মারা এবং মারধর করার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাজার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠন। এই ঘটনায় পোস্তা বাজারের ব্যবসায়িক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার দুপুরে। অভিযোগ, একদল লোক, যার মধ্যে কয়েকজন মহিলাও ছিলেন, আচমকাই ব্যবসায়ী সংগঠনের অফিসে চড়াও হয়। বিশ্বনাথ আগরওয়ালকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার একটি ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে ঘটনাটি ঘটছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে দিয়েছে। খবর পেয়ে জোড়াবাগান থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এই ঘটনার পরেই পোস্তা বাজার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন জরুরি বৈঠকে বসে। সংগঠনের দাবি, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসন অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে তারা কর্মবিরতি চালিয়ে যাবে। সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠন এবং বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নও তাদের এই বন্ধে সমর্থন জানিয়েছে। সংগঠনের জেনারেল সেক্রেটারি বিশ্বনাথ আগরওয়াল দীর্ঘদিন ধরে এই দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর ওপর এই হামলার ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে।

তবে ঘটনার অন্য একটি দিকও উঠে আসছে। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একাংশের দাবি, বিশ্বনাথ আগরওয়াল দীর্ঘ দিন ধরেই নানা ধরনের আর্থিক দুর্নীতি ও বেনিয়মের সঙ্গে যুক্ত। আর সেই ক্ষোভ থেকেই এই ‘গণবিক্ষোভ’ হয়েছে। পাল্টা হিসেবে মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সংগঠনের কর্তাদের মতে, মুষ্টিমেয় কয়েকজন ব্যবসায়ী যারা সংগঠনের সদস্য হলেও, রাজনৈতিক ইন্ধনে এই বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক রং লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যার তীব্র নিন্দা করছে অ্যাসোসিয়েশন।

শুক্রবার দুপুরে সংগঠনের পক্ষ থেকে ফের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেই বৈঠকেই পরবর্তী রণকৌশল এবং বাজার খোলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। তবে প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে বাজার স্বাভাবিক হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা। গোটা ঘটনায় এখন পুলিশ প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে পোস্তা বাজারের হাজার হাজার ব্যবসায়ী। আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে এই ঘটনা প্রশাসনের ওপর এক বড় চাপ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।