দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ভারতের আইকনিক মোটরসাইকেল নির্মাতা সংস্থা রয়্যাল এনফিল্ড (Royal Enfield) অবশেষে পা রাখল ইলেকট্রিক দুনিয়ায়। ইতালির মিলানে ইআইসিএমএ (EICMA) ইভেন্টে প্রথম ঝলক দেখানোর পর, এবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের বাজারে নিজেদের প্রথম ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল ‘ফ্লাইং ফ্লি সি৬’ (Flying Flea C6)-এর পর্দা উন্মোচন করল সংস্থাটি।
নামের পেছনে ইতিহাস: এই বাইকটির নাম রাখা হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিকে উস্কে দিয়ে। সেই সময় রয়্যাল এনফিল্ডের একটি হালকা ওজনের বাইক ছিল যা প্যারাসুটের মাধ্যমে আকাশ থেকে ফেলা যেত— যার নাম ছিল ‘ফ্লাইং ফ্লি’। সেই ঐতিহ্যকে বহন করেই আধুনিক ইলেকট্রিক লুকে ফিরল এই মডেলটি।
পাওয়ারফুল ফিচার ও ডিজাইন:
রেট্রো-মডার্ন লুক: বাইকটিতে রয়েছে ক্ল্যাসিক গোলাকার হেডলাইট এবং ফোর-লেগ অ্যালুমিনিয়াম ফর্ক। তবে এর মাঝখানে কোনো পেট্রোল ইঞ্জিন নেই, রয়েছে একটি শক্তিশালী ব্যাটারি প্যাক।
স্মার্ট প্রযুক্তি: এতে থাকছে টাচস্ক্রিন টিএফটি ডিসপ্লে, যা স্মার্টফোনের সাথে কানেক্ট করা যাবে। গুগল ম্যাপস থেকে শুরু করে কল অ্যালার্ট— সবই মিলবে স্ক্রিনে।
মাইলেজ: যদিও অফিসিয়ালি এখনো জানানো হয়নি, তবে টেক বিশেষজ্ঞদের মতে একবার ফুল চার্জে এটি ১২০ থেকে ১৫০ কিমি পর্যন্ত রেঞ্জ দিতে সক্ষম।
দাম কত? রয়্যাল এনফিল্ডের বাইক মানেই প্রিমিয়াম অনুভব। সূত্রের খবর, ‘ফ্লাইং ফ্লি সি৬’-এর এক্স-শোরুম দাম হতে পারে ৩.৫ লক্ষ থেকে ৪.২৫ লক্ষ টাকার মধ্যে। ২০২৬-এর মাঝামাঝি সময়ে এর বুকিং শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলের বাজারে আল্ট্রাভায়োলেট (Ultraviolette) এবং ওলা ইলেকট্রিকের (Ola Electric) আসন্ন বাইকগুলোর সাথে এটি কড়া টক্কর দেবে।
চার্জিং সুবিধা: সংস্থাটি জানিয়েছে, সাধারণ হোম সকেট দিয়েই এই বাইক চার্জ দেওয়া যাবে। পাশাপাশি ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তির মাধ্যমে মাত্র ৩০ মিনিটে ৮০ শতাংশ চার্জ হয়ে যাবে এই ইভি।
রয়্যাল এনফিল্ডের সেই চিরপরিচিত ‘দুগ দুগ’ আওয়াজ কি ইলেকট্রিক মোটরের গুঞ্জনে ঢাকা পড়ে যাবে? নাকি ঐতিহ্যের হাত ধরে নতুন ইতিহাস লিখবে ‘ফ্লাইং ফ্লি সি৬’? উত্তর দেবে সময়।





