পেট্রল-ডিজেলের দিন কি ফুরোচ্ছে? ভারতের রাস্তায় আসছে বিরাট বদল, জানুন কোন গাড়িতে ভরসা রাখবে দেশ

ভারতের সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থায় আগামী দিনে একক কোনো জ্বালানির রাজত্ব থাকবে না। বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইভির পাশাপাশি সিএনজি এবং এলএনজিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কোন যানবাহনে কোন প্রযুক্তি সবচেয়ে বেশি উপযোগী হবে, তা মূলত নির্ভর করবে গাড়ির ধরন, বার্ষিক ব্যবহার, যাত্রার দূরত্ব, বহনক্ষমতা, চার্জিং পরিকাঠামো এবং মোট খরচের ওপর। দ্য এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্স ইনস্টিটিউট বা টেরির সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

দেশের প্রধান ছয়টি ক্যাটাগরির যান নিয়ে এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দু’চাকা, তিনচাকা, ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক চারচাকা, হালকা বাণিজ্যিক গাড়ি এবং ভারী পণ্যবাহী গাড়ি। পেট্রল, ডিজেল, সিএনজি, বিদ্যুৎ এবং এলএনজির কার্যকারিতা কেমন হবে, তার একটি তুলনামূলক মূল্যায়ন করেছে সংস্থাটি।

দু’চাকা ও তিনচাকায় স্পষ্ট এগিয়ে ইভি দীর্ঘমেয়াদে দু’চাকার যানের জন্য ইভিকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। চার্জিং পরিকাঠামোর উন্নয়ন, প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং খরচ কমার কারণে ইভির ব্যবহার আরও বাড়বে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এর ফলে ধীরে ধীরে কমবে পেট্রলের ওপর নির্ভরতা। অন্যদিকে সিএনজি এখানে মূলত পরিবর্তনের মধ্যবর্তী পর্যায়ের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।

তিনচাকার গাড়ির ক্ষেত্রেও একই ধরনের বদল দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে এই বিভাগে সিএনজির কদর বেশি থাকলেও ভবিষ্যতে ইভি প্রধান প্রযুক্তি হয়ে উঠতে পারে।

ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক গাড়িতে সহাবস্থান ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে পরিবর্তনের গতি কিছুটা ধীর হতে পারে। সিএনজি এখনও ভালো প্রতিযোগিতা ধরে রাখবে, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইভির গুরুত্ব বাড়বে। বাণিজ্যিক চারচাকা গাড়ির ক্ষেত্রেও সিএনজির যেমন অর্থনৈতিক সুবিধা রয়েছে, তেমনই দীর্ঘমেয়াদে ইভির ব্যবহার বাড়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

হালকা বাণিজ্যিক গাড়িতে শহর বা স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতের জন্য ইভির দিকে ঝোঁক বাড়বে। তবে চার্জিং পরিকাঠামো এবং ব্যবহারের প্রকৃতির কথা মাথায় রেখে সিএনজির প্রয়োজনীয়তাও বজায় থাকবে। ভারী পণ্যবাহী ট্রাকের ক্ষেত্রে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি বিশেষ ভূমিকা নিতে পারে।

টেরির এই মূল্যায়নে অর্থনৈতিক দিকটিকে সর্বোচ্চ প্রায় ৩১ শতাংশ এবং পরিবেশগত দিকটিকে প্রায় ২২ শতাংশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী দিনে ভারতের রাস্তায় জ্বালানির বৈচিত্র্যই হতে চলেছে মূল চাবিকাঠি।