গভীর রাতে সার্কিট হাউজ থেকে তাড়ানোর অভিযোগ! মহুয়া মামলায় সরাসরি রাজ্যের জবাব তলব সুপ্রিম কোর্টের

গত অগস্টে কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউজ থেকে উচ্ছেদ করার যে অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র, সেই মামলায় এবার সরাসরি রাজ্য সরকারের জবাব তলব করল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহন-এর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। শীর্ষ আদালতের এই পদক্ষেপে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

গত সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শেষ হওয়ার পর এক রাত কাটানোর জন্য কৃষ্ণনগরের সার্কিট হাউজে উঠেছিলেন মহুয়া মৈত্র। তাঁর দাবি ছিল, একজন নির্বাচিত সাংসদ হিসেবে সেখানে থাকার সম্পূর্ণ অধিকার তাঁর রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, তাঁকে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যেই জেলা প্রশাসন গভীর রাতে তাঁকে জোর করে সার্কিট হাউজ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে।

এই ঘটনার পরই গত ১৪ অগস্ট সোশাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। তাঁর অভিযোগ ছিল, সরকারি মালিকানাধীন ওই সার্কিট হাউজে থাকার জন্য প্রথমে তাঁকে ঘর বরাদ্দ করা হলেও পরে নদিয়া জেলা প্রশাসন সেটি বেআইনিভাবে খালি করার চেষ্টা চালায়। তিনি রুম ছাড়তে অস্বীকার করায় ভবনের বাইরে এক বিশাল জনসমাগম জড়ো হয় এবং সেখান থেকে উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়। পুরো বিষয়টি জানিয়ে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাকেও চিঠি লিখেছিলেন তিনি।

আইনি লড়াইয়ের হুঙ্কার দিয়ে শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মহুয়া মৈত্র। তাঁর দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা তাঁকে জোরপূর্বক সার্কিট হাউজ থেকে বের করে দিয়েছিলেন। এদিনের শুনানিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও কেন্দ্রের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি আদালতের কাছে এই বিষয়ে জবাব দাখিল করার সময় চেয়ে নেন।

উভয় পক্ষের সওয়াল শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জবাব দাখিল করতে হবে। এর ঠিক এক সপ্তাহের মধ্যে মামলাকারী মহুয়া মৈত্র তার পাল্টা জবাব পেশ করবেন। সব ঠিকঠাক থাকলে আর মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যেই এই হাই-প্রোফাইল মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এখন দেখার, এই বিস্ফোরক অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজ্য প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে কী সাফাই দেয় এবং জল কতদূর গড়ায়।

Pratik Saha
  • Pratik Saha