“পেট্রোল দিয়ে চলে তাও ৩০-এর বেশি মাইলেজ!” কীভাবে ম্যাজিক দেখায় হাইব্রিড গাড়ি? আসল রহস্য ফাঁস

পেট্রোলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং দৈনন্দিন যাতায়াতের খরচ সামলাতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে মধ্যবিত্তের। অনেকেই এখন ইলেকট্রিক ভেহিকল বা ইভি-র দিকে ঝুঁকছেন। তবে চার্জিংয়ের ঝামেলা ও দূরপাল্লার টেনশন এড়াতে অনেকেই আবার হাইব্রিড গাড়িকে সেরা বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। ভারতেও হু হু করে বাড়ছে টয়োটা, মারুতি সুজুকি ও হোন্ডার মতো সংস্থার হাইব্রিড মডেলের বিক্রি। কিন্তু পেট্রোলে চলার পরেও এই গাড়িগুলো কীভাবে দুর্দান্ত মাইলেজ দেয়? এর নেপথ্যে রয়েছে এক দারুণ প্রযুক্তি।
একটি হাইব্রিড গাড়ি কীভাবে চলে? সহজ কথায়, হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকল বা এইচইভি (HEV)-তে একটি পেট্রোল ইঞ্জিনের পাশাপাশি থাকে একটি ইলেকট্রিক মোটর এবং একটি শক্তিশালী ব্যাটারি। গাড়িটি ঠিক কোন গতিতে চলছে এবং রাস্তার পরিস্থিতি কেমন, তার ওপর নির্ভর করে এই সিস্টেম কাজ করে। কখনও এটি সম্পূর্ণ ব্যাটারির সাহায্যে চলে, কখনও আবার পেট্রোল ইঞ্জিনের ওপর ভরসা করে। এমনকি প্রয়োজনের সময় ইঞ্জিন এবং ইলেকট্রিক মোটর একসঙ্গে মিলে গাড়িটিকে চালিকাশক্তি জোগায়। কোন সময়ে কোন শক্তি ব্যবহার করতে হবে, তা গাড়ি নিজেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ করে নেয়।
কেন এত বেশি মাইলেজ পাওয়া যায়? শহরের রাস্তায় বারবার জ্যামে পড়তে হয় এবং ঘন ঘন ব্রেক কষতে হয়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে ইলেকট্রিক মোটর পেট্রোল ইঞ্জিনের ওপর থেকে কাজের চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে গাড়ি থামানোর বা গতি কমানোর সময় যে শক্তি নষ্ট হয়, তার একটি অংশ ‘রিজেনারেটিভ ব্রেকিং’ প্রযুক্তির মাধ্যমে পুনরায় ব্যাটারিতে জমা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরের অলিগলিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকরী। শুধু তাই নয়, হাইওয়েতেও হাইব্রিড গাড়িগুলো দারুণ মাইলেজ দিতে সক্ষম, কারণ যাত্রার একটি বড় অংশ এগুলো ব্যাটারির শক্তিতেই কভার করতে পারে।
বাজারে বাড়ছে চাহিদা সাধারণ মানুষের এই সচেতনতার প্রভাব স্পষ্ট গাড়ির বাজারেও। সড়ক পরিবহন মন্ত্রকের ‘বাহন’ পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে শক্তিশালী হাইব্রিড গাড়ির বিক্রি লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। টয়োটা হাইবিড়ার কিংবা হোন্ডা সিটি হাইব্রিডের মতো জনপ্রিয় মডেলগুলোর বিক্রি গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সবমিলিয়ে, ইভি ও পেট্রোল গাড়ির মাঝের এই দারুণ মধ্যপন্থাটি এখন ভারতীয় গাড়ি বাজারে এক নতুন বিপ্লব ঘটাচ্ছে।