পেটে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে কিশোরী, ডাক্তারদের রিপোর্ট দেখে পরিবারের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল!

সাধারণ পেটে ব্যথা ভেবেই তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কিশোরীকে। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ডাক্তাররা যা জানালেন, তা শুনে পরিবারের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাওয়ার জোগাড়। সাধারণ যন্ত্রণার পেছনে লুকিয়ে ছিল এক অন্ধকার অধ্যায় এবং এক মর্মান্তিক অপরাধের চিহ্ন।

কী ঘটেছিল সেই রাতে? জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ বোধ করছিল ওই কিশোরী। ঘটনার দিন পেটে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষার পর চিকিৎসকদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা কিছু বিশেষ পরীক্ষার নির্দেশ দেন। সেই রিপোর্টের ফলাফল আসতেই সামনে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। চিকিৎসকরা জানতে পারেন, ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা।

তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য: পরিবারের দাবি, তাঁরা এই বিষয়ে ঘুণাক্ষরেও কিছু জানতেন না। কিশোরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বেরিয়ে আসে এক ‘অন্ধকার’ রাতের কাহিনি। অভিযোগ, বেশ কিছু মাস আগে এক পরিচিত ব্যক্তি নির্জনতার সুযোগ নিয়ে ওই কিশোরীর ওপর পাশবিক অত্যাচার চালায়। লোকলজ্জার ভয় এবং হুমকির মুখে মুখ খুলতে পারেনি ওই নাবালিকা। সেই রাতের সেই নারকীয় অভিজ্ঞতাই আজ তার শরীর ও মনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাসপাতাল ও প্রশাসনের ভূমিকা: কিশোরী নাবালিকা হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তৎক্ষণাৎ বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় একটি পকসো (POCSO) আইনে মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্তের খোঁজে শুরু হয়েছে চিরুনি তল্লাশি। কিশোরীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও, সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।

সামাজিক উদ্বেগ: পারিপার্শ্বিক এই ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খোদ নিজের এলাকায় পরিচিতের হাতে এমন লাঞ্ছনার শিকার হওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ। দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে কিশোরীর পরিবার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy