হুগলিতে পুলিশ সেজে প্রতারণার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সপ্তগ্রামের বিধায়ক তপন দাশগুপ্তর নাম ব্যবহার করে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা চাওয়ার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা হলেন সৌমদীপ সাঁতরা (২৮) এবং প্রতাপ ঘোষ (৩৬)।
কীভাবে ধরা পড়ল অভিযুক্তরা?
পোলবা থানার পুলিশ সুগন্ধা এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে তাদের গ্রেফতার করে। ধৃতদের কাছ থেকে পুলিশের পোশাক, একটি পিস্তলের খাপ, দুটি মোবাইল ফোন এবং কার্তুজের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার তাদের চুঁচুড়া জেলা আদালতে হাজির করা হলে বিচারক ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
হুগলি গ্রামীণ পুলিশের ডিএসপি প্রিয়ব্রত বকসি জানান, “এরা দীর্ঘদিন ধরে ভুয়ো পরিচয়ে বিভিন্ন এলাকায় তোলাবাজি ও প্রতারণা চালাত। তাদের বিরুদ্ধে আরও কোনো অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে দেখা হবে এই চক্রের পেছনে আর কেউ জড়িত আছে কি না এবং পুলিশের পোশাক তারা কোথা থেকে পেল।”
ব্যবসায়ীর অভিযোগ
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী তপন মজুমদার, যাঁর সুগন্ধায় একটি ইলেকট্রিক বাইকের ব্যাটারির কারখানা আছে, অভিযোগ করেছেন যে গত বৃহস্পতিবার থেকে অভিযুক্তরা দফায় দফায় পুলিশের পোশাকে তার কারখানায় গিয়ে কর্মীদের ভয় দেখাত এবং ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করত। তারা হুগলির সাংসদ ও বিধায়কের সঙ্গে ছবি দেখিয়ে নিজেদের শাসকদল ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দিত। টাকা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেয়।
ব্যবসায়ী আরও জানান, অভিযুক্তরা তাকে নকল বন্দুক দেখিয়ে ভয় দেখিয়েছিল এবং তার গাড়ি নিয়ে সারারাত ঘুরেছিল। অনলাইনে এবং নগদে তার কাছ থেকে ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকাও হাতিয়ে নেয়। তিনি বলেন, “আমি যখন কয়েকজনকে বিষয়টি জানাই, তখন বুঝতে পারি আমি প্রতারিত হয়েছি। এরপরই পোলবা থানায় অভিযোগ জানাই।”