পুলিশের সাথে ৪৫ মিনিটের ‘স্নায়ুযুদ্ধ’! রাস্তায় মীনাক্ষী-সেলিম, মাঝরাতেও উত্তপ্ত বিবাদী বাগ!

রাতভর রাজপথে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, মহম্মদ সেলিমরা! নির্বাচন কমিশনের সিইও (CEO) মনোজ আগরওয়ালের দেখা না পাওয়া পর্যন্ত ধর্না অবস্থান থেকে এক পা-ও নড়বে না বাম নেতৃত্ব। বুধবার রাতে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘ ৪৫ মিনিটের নাটকীয় টানাপোড়েনের পর শেষ পর্যন্ত বিবাদী বাগের রাস্তায় নিজেদের অবস্থান পোক্ত করে নিয়েছেন সিপিআইএম নেতা-কর্মীরা।

কেন এই মাঝরাতের লড়াই? বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, মহম্মদ সেলিম এবং সুজন চক্রবর্তীদের নেতৃত্বে বুধবার সন্ধ্যায় টি বোর্ড থেকে একটি বিশাল মিছিল নির্বাচন কমিশনের দফতর পর্যন্ত যায়। তাঁদের মূল দাবি:

  • চক্রান্ত করে ভোটার লিস্ট থেকে একজন বৈধ ভোটারের নামও বাদ দেওয়া যাবে না।

  • চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ না করে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করা চলবে না।

সিইও মনোজ আগরওয়াল নিজে এসে স্মারকলিপি গ্রহণ না করা পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সেলিম। কমিশনের অধস্তন কোনো আধিকারিকের হাতে চিঠি দিতে সাফ অস্বীকার করেছেন বাম নেতৃত্ব।

পুলিশের সাথে ৪৫ মিনিটের ‘স্নায়ুযুদ্ধ’ রাত ৯টা বাজার পরেই পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং প্রিজন ভ্যান নিয়ে হাজির হন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়। একদিকে পুলিশের জেদ রাস্তা খালি করার, অন্যদিকে সেলিমের পালটা চ্যালেঞ্জ— “হয় প্রিজন ভ্যান সরান, নয়তো আমরা রাজভবনের সামনে গিয়ে বসব।” প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে দূত মারফত চলে দু-পক্ষের বাগবিতণ্ডা।

নতিস্বীকার করল পুলিশ? অবশেষে রাত ৯টা ৪৫ নাগাদ পুলিশের প্রিজন ভ্যান সরিয়ে নেওয়া হয়। বামেরাও যাতায়াতের জন্য রাস্তার একটি লেন ছেড়ে দিয়ে নিজেদের অবস্থানের জায়গা সংকুচিত করে। তবে শীতের রাত উপেক্ষা করেই রাস্তায় চাদর পেতে বসে পড়েন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ও কয়েকশো কর্মী-সমর্থক। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা, “বিচার না নিয়ে আমরা ফিরছি না।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা নিয়ে বামেদের এই আন্দোলন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল। বিশেষ করে যুবনেত্রী মীনাক্ষীর রাতভর রাস্তায় বসে থাকা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হতে শুরু করেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy