“পুরো দিন ইউটিউব দেখে কাটে!” ড্রিম জব নাকি ক্যারিয়ারের ফাঁদ? তরুণ ইঞ্জিনিয়ারের পোস্টে তোলপাড় নেটপাড়া

আইআইটি (IIT) থেকে পাস করে নামী বহুজাতিক সংস্থায় মোটা বেতনের চাকরি— অনেকের কাছেই যা স্বপ্নের মতো। কিন্তু সেই স্বপ্নের চাকরিতে যোগ দিয়েই এক তরুণ ইঞ্জিনিয়ারের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা শুনে চক্ষু চড়কগাছ নেটিজেনদের। তাঁর দাবি, অফিসে তাঁর সারাটা দিন কাটে কেবল রিলস আর ইউটিউব ভিডিও দেখে!

কী সেই আজব অভিজ্ঞতা? সম্প্রতি রেডিট (Reddit)-এ নিজের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন ওই আইআইটি গ্র্যাজুয়েট। তিনি জানিয়েছেন, অফিসে তাঁর জন্য কোনও প্রকৃত কাজ বা গুরুদায়িত্ব নেই। দিনভর ডেস্কে বসে কেবল ইমেইল চেক করা আর ভিডিও দেখে সময় কাটানোই এখন তাঁর রুটিন। শুরুতে একটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) প্রজেক্টে তাঁকে নেওয়া হলেও, পরে সেটি বাতিল হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি এমন এক টিমে আছেন, যেখানে নতুন কিছু শেখার বা করার সুযোগ প্রায় শূন্য।

AI-এর দাপটে কি কাজ হারাচ্ছেন তরুণেরা? ওই তরুণ ইঞ্জিনিয়ার এক গভীর সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তাঁর মতে, আগে জুনিয়র ডেভেলপাররা যেসব ছোট ছোট কাজ করে কাজ শিখতেন, এখন সেই সব কাজ AI কয়েক সেকেন্ডে করে দিচ্ছে। ফলে নতুনদের জন্য অফিসে কোনও সৃজনশীল কাজ থাকছে না। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “এটাই কি তবে আধুনিক করপোরেট দুনিয়ার নতুন বাস্তবতা?”

নেটিজেনদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া: পোস্টটি ভাইরাল হতেই মন্তব্যের বন্যা বয়ে গিয়েছে।

  • এক পক্ষের দাবি: “এটি তো স্বপ্নের চাকরি! এই সুযোগে নিজের আলাদা কোনও ব্যবসা বা সাইড প্রজেক্ট শুরু করো।”

  • অভিজ্ঞদের সতর্কতা: অভিজ্ঞ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘ সময় কাজ না করলে স্কিল বা দক্ষতা কমে যায়। পরবর্তী সময়ে অন্য কোম্পানিতে চাকরি পাওয়া কঠিন হতে পারে।

ক্যারিয়ার বনাম মানসিক সন্তুষ্টি: অফিসে সিনিয়রদের অনাগ্রহ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ না থাকায় ওই তরুণ নিজেকে বিচ্ছিন্ন বোধ করছেন। মোটা বেতন থাকলেও কাজের অভাব তাঁকে মানসিক চাপে ফেলছে। এই ঘটনাটি নতুন প্রজন্মের কাছে এক বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে— চাকরির বাজারে কেবল নামী কোম্পানি বা মোটা বেতনই কি সব? নাকি কাজের মান এবং মানসিক সন্তুষ্টিই দীর্ঘমেয়াদে সাফল্যের আসল চাবিকাঠি?

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy