‘পুরোটাই দুর্নীতি ও থ্রেট পলিটিক্স!’ পঞ্চায়েতে বড় রদবদল নিয়ে মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ

মঙ্গলবার সকালে ইকো পার্কে প্রাত্যহিক শরীরচর্চার মাঝে রাজ্য রাজনীতির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরব হলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সেবাশ্রয় হাসপাতালে চিকিৎসার গাফিলতি থেকে শুরু করে সুরুচি সংঘের পুজোয় অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসের অনুপস্থিতি—সব বিষয়েই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে তুলোধুনো করলেন তিনি।
সেবাশ্রয়ে চিকিৎসার অপপ্রয়োগ এবং রোগীর পা কাটা যাওয়ার ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “যাঁরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন, তাঁদের উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত।” তিনি অভিযোগ করেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই প্রেসক্রিপশন লেখার মতো অমানবিক কাজ চলছে। বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলে তিনি জানান, বর্তমান সরকার এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
রাজ্যে দুর্নীতি ও হিংসার রাজনীতি নিয়ে পঞ্চায়েতমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি হিমশৈলের চূড়া মাত্র। দুর্নীতি, ভয় দেখানো এবং থ্রেট পলিটিক্স তৃণমূলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে। দলের ভেতরেই এখন কর্মীরা সোচ্চার হচ্ছেন।” তিনি আরও জানান, রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে সুশৃঙ্খল করতে সরকার উদ্যোগী হয়েছে। মুর্শিদাবাদ বা উত্তর ২৪ পরগনার মতো বড় জেলাগুলিতে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির সুষ্ঠু বন্টনের লক্ষ্যে প্রায় চার হাজার নতুন পঞ্চায়েত তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যাতে মানুষ দ্রুত সরকারি পরিষেবা পান।
পুরসভা ও পঞ্চায়েতের দুর্নীতি প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের তোপ, “গত ১৫ বছর ধরে পরিষেবা দেওয়ার চেয়ে কাটমানি খাওয়ার দিকেই এদের নজর বেশি ছিল। পার্ক দখল, পুকুর ভরাট করে টাকা কামানোই ছিল কাউন্সিলরদের মূল লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা পড়ে থাকলেও, পরিকল্পনার অভাবে তা খরচ করা হয়নি।”
দলীয় প্রভাবমুক্ত ক্লাব ও সামাজিক সংস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, “পরিবর্তন শুরু হয়েছে। খেলাধুলার সংস্থা বা দুর্গোৎসব পরিচালনার দায়িত্ব প্রকৃত সংগঠকদের হাতেই থাকা উচিত। সব জায়গায় তৃণমূলের চোর ও অযোগ্যরা বসে থাকায় উন্নয়ন থমকে গিয়েছে।” দমদম পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি এবং পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও তিনি সরব হন। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, পুলিশ যদি আজও তৃণমূল নেতাদের দালালি করে, তবে তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক হওয়া উচিত।
মিড-ডে মিল প্রকল্পকেও তিনি এক বিশাল দুর্নীতি বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, রাজ্যে প্রায় আট হাজার স্কুল রয়েছে যেখানে ছাত্রছাত্রী নেই, অথচ সেখানে মিড-ডে মিলের নামে টাকা লুট হতো। এছাড়া হাসপাতালের রোগীর খাবারের মান ও বরাদ্দ নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। মাত্র ৫৪ টাকায় মানসম্মত খাবার প্রদান যে অসম্ভব এবং তার মধ্যেও যে চুরি হতো, তা তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। পরিশেষে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গকে যারা পিছিয়ে দিয়েছে, তাদের নিজেদের অন্তর্কলহ নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। রাজ্যবাসীর উন্নতির লক্ষ্যে সরকার অবিচল।”