শহরের বুকে ফের একবার উদ্ধার হলো মানব কঙ্কাল। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা এলাকার ১৩৬ নম্বর কেসি সেন স্ট্রিটে নর্দমার পাশ থেকে এই কঙ্কালটি উদ্ধার হওয়ার পর গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
কলকাতা পুরসভার কর্মীরা এদিন সকালে নিয়মিত নর্দমা পরিষ্কারের কাজ করছিলেন। সেই সময়ই তাঁদের এক কর্মী প্রথমে নর্দমার পাশে কিছু অস্বাভাবিক বস্তু দেখতে পান। কাছে যেতেই দেখা যায়, সেটি আসলে একটি কঙ্কাল! সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় স্থানীয় থানায়।
মৃত্যু কয়েক সপ্তাহ আগে!
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার পুলিশ। তারা প্রথমে এলাকাটি ঘিরে ফেলে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পর পুলিশের অনুমান, দেহটি অনেকদিন আগে থেকেই সেখানে পড়েছিল। পচে গলে সেটি কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি একজন পুরুষের বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের ধারণা, মৃত্যু অন্তত কয়েক সপ্তাহ আগেই ঘটেছে।
তবে কীভাবে ওই কঙ্কালটি নর্দমার পাশে এসে পড়ল, তা নিয়ে এলাকায় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, কেউ হয়তো ওই দেহটি অন্য কোথাও থেকে এনে এখানে ফেলে গিয়েছে, কারণ রাতের বেলা এলাকাটি অন্যান্য এলাকার তুলনায় নির্জন থাকে।
তদন্তে গোয়েন্দা প্রধান, সিসিটিভি ফুটেজে নজর
পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি ময়নাতদন্তের জন্য কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। এলাকার চারপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার জানিয়েছেন, “পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্ত করার দিকেই এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফরেনসিক রিপোর্ট আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, আপাতত কোনো অপরাধমূলক চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর কারণ, সময় এবং কঙ্কালটির পরিচয় স্পষ্ট হলেই বোঝা যাবে— এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো বড় রহস্য লুকিয়ে আছে।