ওড়িশার ঐতিহ্যবাহী পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে আজ এক বিশেষ এবং রহস্যময় অধ্যায়। আজ, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) টানা ৪ ঘণ্টার জন্য ভক্তদের দর্শন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির প্রশাসন। বিকেল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মন্দিরের গর্ভগৃহে চলবে অতি গোপন এক আচার, যার নাম ‘বনকলাগি’।
কেন এই গোপনীয়তা? শতাব্দী প্রাচীন এই প্রথাকে ‘শ্রীমুখ শৃঙ্গার’ বলা হয়। লোকচক্ষুর আড়ালে গর্ভগৃহের দরজা বন্ধ করে এই আচারে ভগবান জগন্নাথ, বড় ভাই বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রার শ্রীমুখ পুনর্নির্মাণ ও সজ্জিত করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও ভেষজ উপাদান। কস্তুরি, কর্পূর এবং বিশেষ ভেষজ রঙ দিয়ে দেবতাদের শ্রীবিগ্রহে নতুন জেল্লা ফিরিয়ে আনা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই প্রক্রিয়ায় বিগ্রহের ঐশ্বরিক শক্তি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়।
কারা অংশ নেন এই আচারে? বনকলাগি অত্যন্ত গোপনীয় এবং পবিত্র এক অনুষ্ঠান। বংশপরম্পরায় কেবল ‘দত্ত মহাপাত্র’ সম্প্রদায়ের সেবাইতরাই এই কার্যে অংশ নেওয়ার অধিকার রাখেন। সাধারণ ভক্ত বা অন্য সেবাইতদেরও এই সময় ভেতরে প্রবেশের অনুমতি থাকে না। এই চার ঘণ্টা মহাপ্রভু থাকেন নিভৃতে, নিজের বিশেষ রূপটানে ব্যস্ত।
প্রশাসনের কড়া দাওয়াই ধর্মীয় আচারের পাশাপাশি মন্দির চত্বরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর হয়েছে শ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রশাসন (SJTA)। প্রধান প্রশাসক অরবিন্দ পাধি সম্প্রতি কর্তব্যরত আধিকারিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং আচার পালনে বিলম্ব করার অভিযোগে তিনজন সেবাইতকে কারণ দর্শানোর (Showcause) নোটিশ দিয়েছেন। আগামী ৭ দিনের মধ্যে জবাব না দিলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ভক্তদের জন্য বার্তা: যারা আজ পুরী দর্শনে আছেন বা যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তারা বিকেল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মন্দির দর্শনের সময়সূচী মাথায় রাখবেন। ১০টার পর মন্দির খুললে ফের স্বাভাবিক দর্শন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।