মহারাষ্ট্রের পুণেতে পুরুলিয়ার এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। অভিযোগ উঠেছিল, শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে ওই যুবককে প্রাণ হারাত হয়েছে। এই স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে শুরু থেকেই সরব ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে মৃত যুবকের দেহ পুরুলিয়ায় পৌঁছানোর পর সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফর এবং তাঁর মন্তব্য ঘিরে এখন নতুন জল্পনা দানা বেঁধেছে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি নিজেদের প্রাথমিক অবস্থান থেকে কিছুটা পিছু হঠল ঘাসফুল শিবির?
রবিবার পুরুলিয়ায় মৃত শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি তাঁদের পাশে থাকার পূর্ণ আশ্বাস দেন। তবে সেখানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক কিছুটা সাবধানী সুর বজায় রাখেন। তিনি সরাসরি ‘বাংলা বলার অপরাধে খুন’—এই তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত না করে বলেন, “মৃত্যু ঠিক কীভাবে হয়েছে, তা সম্পূর্ণ তদন্ত সাপেক্ষ।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে চর্চা। বিরোধীদের দাবি, উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ না থাকায় এখন পিছু হঠছে শাসক দল।
উল্লেখ্য, এই ঘটনার পর থেকেই ‘বাঙালি বনাম বহিরাগত’ বিতর্ক উসকে দিয়েছিল তৃণমূলের একাধিক নেতা। পুণেতে বাঙালি শ্রমিকের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন স্পষ্ট করে দেন যে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা ঠিক হবে না। যদিও তিনি মহারাষ্ট্র সরকারের কাছে এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এই রহস্যমৃত্যুর নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী, তা এখন পুলিশি তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে। আপাতত পুরুলিয়ার ওই শ্রমিকের পরিবার এবং রাজ্য রাজনীতি—উভয়ই তাকিয়ে আছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পুণে পুলিশের বয়ানের দিকে।